নার্সিংহোমে আগুন লেগে আতঙ্ক ছড়াল বর্ধমানের নবাবহাট এলাকায়। সোমবার ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ওই ঘটনার পরে শোরগোল পড়ে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় নার্সিংহোম চত্বর। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের চারটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে গেলেও উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এক দমকলকর্মী। কোনও রকমে রোগীদের বার করে আনা হয় বাইরে। কী ভাবে অগ্নিকাণ্ড হল, খতিয়ে দেখছে দমকল ও পুলিশ।
এক রোগীর আত্মীয় বলেন, ‘‘আইসিইউ ঘরে ছিলাম। হঠাৎ করে দেখি ধোঁয়া বার হচ্ছে আর নার্সিংহোমের লোকেরা সবাই বলছে বাইরে বেরিয়ে যাও। পরে জানতে পারলাম নীচের তলায় আগুন লেগেছিল, কিন্তু উপর পর্যন্ত ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। ধোঁয়ার কারণে বেশ কিছুক্ষণ আটকে ছিলাম। পরে আমাদের সকলকে বার করে আনা হয়।’’ প্রত্যের তলা থেকেই রোগীদের বার করে আনা হয় একই ভাবে।
দমকলের বর্ধমান ডিভিশন ফায়ার অফিসার ইনচার্জ সুমিত সুর বলেন, ‘‘ম্যানেজার জানিয়েছেন, ২৫ জনের মতো রোগী ছিল নার্সিংহোমে। তাঁদের বিভিন্ন নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আমাদের একজন কর্মীও অসুস্থ হয়ে পড়েন ধোঁয়ার কারণে। কী ভাবে বেসমেন্টে অফিস কাম ল্যাবে আগুন লাগল, তা তদন্ত সাপেক্ষ। অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ঠিকঠাক ছিল কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, ‘‘ঘটনার পরে ডেপুটি সিএমওএইচ এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সিএমওএইচ ঘটনাস্থলে যান। নার্সিংহোম যে রিপোর্ট দিচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন আগুন লাগল বা অগ্নি নির্বাচন ব্যবস্থা ঠিক ছিল কি না সেই বিষয়টি দমকল খতিয়ে দেখবে।’’ তাঁর দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও কোনও রোগীর কোনও ক্ষতি হয়নি। ২৩ জন রোগীকে নিরাপদে বার করে চারটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে।
নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘‘ফ্রিজ থেকে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমাদের সমস্ত ব্যবস্থা ঠিক ছিল। স্বাস্থ্যভবনকে রিপোর্ট জানিয়ে দেব।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)