Advertisement
E-Paper

পুরাকীর্তিতে ভরা শহরে দেখা নেই পর্যটকের

ছোট শহরের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে বহু পুরাকীর্তি। সে সবের সঙ্গে জড়িয়ে নানা ইতিহাস। তবু বছরভর পর্যটকের পা পড়ে হাতে গোনা। ঘটা করে পর্যটন উৎসব বা পুরাকীর্তি আলোয় সাজার ব্যবস্থা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না থাকায় থমকে রয়েছে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে কালনার সম্ভাবনা। থাকার জায়গা থেকে শুরু করে পর্যটনস্থলগুলি ঘুরিয়ে দেখানোর ব্যবস্থা, ঠিক মতো কিছুই মেলে না এই শহরে।

কেদারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৫ ০১:৪৪
অবহেলায় পড়ে নানা নিদর্শন। বাঁ দিকে, জোড়া মন্দির। ডান দিকে, দাঁতনকাঠিতলার মসজিদ। নিজস্ব চিত্র।

অবহেলায় পড়ে নানা নিদর্শন। বাঁ দিকে, জোড়া মন্দির। ডান দিকে, দাঁতনকাঠিতলার মসজিদ। নিজস্ব চিত্র।

ছোট শহরের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে বহু পুরাকীর্তি। সে সবের সঙ্গে জড়িয়ে নানা ইতিহাস। তবু বছরভর পর্যটকের পা পড়ে হাতে গোনা। ঘটা করে পর্যটন উৎসব বা পুরাকীর্তি আলোয় সাজার ব্যবস্থা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না থাকায় থমকে রয়েছে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে কালনার সম্ভাবনা। থাকার জায়গা থেকে শুরু করে পর্যটনস্থলগুলি ঘুরিয়ে দেখানোর ব্যবস্থা, ঠিক মতো কিছুই মেলে না এই শহরে। অবহেলায় নষ্ট হতে বসেছে কিছু পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনও।

১০৮ শিবমন্দির, প্রতাপেশ্বর মন্দির, লালজি মন্দির, কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির থেকে গোপালবাড়ি মন্দির, নজর কেড়েছে বহু মানুষের। এখানেই ভবানী মন্দির তৈরি করে গান, কবিতা লিখতেন সাধক কবি ভবাপাগলা। তাঁর নানা লেখা ও ছবি সংরক্ষিত সেখানে। মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজড়িত মহাপ্রভু মন্দির থেকে প্রায় ছয় শতকের পুরনো দাঁতনকাঠি তলার মসজিদ— রয়েছে আরও নানা দ্রষ্টব্য স্থান। কিন্তু দেখা নেই পর্যটকের। যাঁরা আসেন, কয়েক ঘণ্টা থেকেই ফিরে যান।

প্রতাপেশ্বর মন্দির, ১০৮ শিমবন্দিরের মতো কয়েকটি নিদর্শন রয়েছে পুরাতত্ত্ব বিভাগের অধীনে। সেগুলিতে নজরদারি রয়েছে যথেষ্ট। কিন্তু বেশ কিছু প্রাচীন নিদর্শন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। জগন্নাথতলার টেরাকোটা শৈলীর জোড়া শিবমন্দিরের ভগ্ন দশা। বর্ধমান রাজ পরিবারের তৈরি এই মন্দির দু’টির গা থেকে খসে পড়ছে নানা কারুকাজ। বছরখানেক আগে হেরিটেজ কমিশনের কয়েক জন সদস্য পরিদর্শন করে গেলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। বর্ধমান রাজ পরিবারের সমাধিক্ষেত্র সমাজবাড়িও একটি পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন। বর্তমানে ব্যক্তি মালিকাধীন এই নিদর্শন ধ্বংসের পথে। নানা সময়ে সরকারি অধিগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হলেও তা হয়নি। দাঁতনকাঠিতলার মসজিদেরও একই রকম পরিস্থিতি।

পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে হাল ফেরাতে নানা সময়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ তেমন কিছু হয়নি। শহরে এতগুলি দর্শনীয় স্থান থাকলেও সেগুলি নিয়ে কোনও প্রচারের ব্যবস্থা হয়নি। কোনও পর্যটক এলে ঘুরিয়ে দেখানোর মতো গাইড নেই, মেলে না কোনও দিক্‌নির্দেশও। বিদেশি পর্যটকেরা এলে তো রীতিমতো সমস্যা পড়েন। গাড়ি রাখার জায়গা নেই। থাকার ভাল জায়গাও নেই। পুরসভার যে ভবনটি রয়েছে সেটিও আহামরি কিছু নয়। খাওয়ারও ভাল ব্যবস্থা নেই। কয়েকটি হোটেল ও লজ থাকলেও সেখানে অল্প কিছু লোকজনের জন্য ব্যবস্থা থাকে।

অনেক পর্যটকই ফিরে যাওয়ার আগে সেই জায়গার স্মৃতি হিসেবে এলাকার কিছু কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এই শহরে পর্যটকদের কাছে বিক্রি করার জন্য তেমন কোনও জিনিস তৈরি হয় না। কালনার অনেক মিষ্টির দোকানে ভাল মাখা সন্দেশ পাওয়া যায়। বাইরে থেকে আসা মানুষজনের কাছে তা বিক্রির জন্য কোনও প্রচার নেই। অনেক দিন ধরে ভাগীরথীতে ভাসমান সেতু তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে পুরসভার। তা তৈরি হলে নদিয়ার মায়াপুর-সহ নানা জায়গা থেকে পর্যটকেরা সহজে কালনায় পৌঁছতে পারবেন। বেশ কয়েক বার সমীক্ষা হলেও কাজ আর এগোয়নি।

বছর চারেক আগে তৎকালীন পর্যটন মন্ত্রী রচপাল সিংহ কালনার পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলি ঘুরে দেখার পরে ১০৮ শিবমন্দির এবং রাজবাড়ি চত্বরে ‘আলো এবং ছায়া’ নামে একটি প্রকল্পের উদ্যোগ হয়। নানা জটিলতা কাটিয়ে তা তৈরি হলেও সন্ধ্যা থেকে হাতে গোনা কয়েকটি মন্দিরে মাত্র ঘণ্টা দুয়েক তা দেখা যায়। কয়েকটি মন্দিরে এর আলোয় ঝলমল করলেও গোপালবাড়ি মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের মতো নিদর্শনগুলি রয়েছে আঁধারেই।

দাঁতনকাঠিতলার মসজিদটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা আঞ্জুমান কমিটির সভাপতি সানাওয়াজউদ্দিন মণ্ডল জানান, মসজিদের উন্নতির জন্য বারবার সরকারি হস্তক্ষেপ চেয়েও লাভ হয়নি। তাঁর আশঙ্কা, অবহেলায় এক দিন নষ্ট হয়ে যাবে এই মসজিদ। ভাগীরথীর পাড়ে সৌন্দর্যায়নের কোনও উদ্যোগও হয়নি এই শহরে। সম্প্রতি বহরমপুর থেকে এখানে বেড়াতে আসা জনার্দন ঘোষের কথায়, ‘‘কয়েক ঘণ্টা এখানে কাটানো যায়। কিন্তু তার বেশি সময় থাকা সমস্যার। ঠিক মতো পরিকাঠামো তৈরি হলেই ভ্রমণপিপাসু মানুষ এখানে আসবেন।’’

কালনার বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু অবশ্য জানান, আলো-ছায়া প্রকল্প আরও আটটি মন্দিরে তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে পর্যটন দফতরকে। সরকারি একটি অতিথিশালা তৈরির চেষ্টা চলছে। এ বছরই পর্যটন দফতরের ক্যাটালগে কালনার নানা দ্রষ্টব্য স্থান অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে। এ ছাড়া পর্যটন উৎসবও হচ্ছে। কালনার পুরপ্রধান দেবপ্রসাদ বাগ জানান, শহরকে সুন্দর করে সাজাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ হয়েছে। তাতে শহর পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে তাঁর দাবি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy