Advertisement
E-Paper

ফসলের দাম নেই, মার খাচ্ছে পুজোর বাজার

মাঝে আর দিন সাতেক। তবু জমেনি পুজোর বাজার। পসরা সাজিয়ে বিক্রেতারা বসে থাকলেও সে ভাবে ক্রেতা মিলছে না। যাঁরা আসছেন, তাঁরাও বাজেট কমিয়েছেন এ বার। জেলার গ্রামীণ এলাকার একটি বড় অংশে পুজোর বাজারের এমনই হাল। পরপর কয়েকটি ফসলের উপযুক্ত দাম না মেলার জন্যই এই পরিস্থিতি বলে দাবি বাসিন্দাদের অনেকের।

কেদারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৫ ০১:৫৮

মাঝে আর দিন সাতেক। তবু জমেনি পুজোর বাজার। পসরা সাজিয়ে বিক্রেতারা বসে থাকলেও সে ভাবে ক্রেতা মিলছে না। যাঁরা আসছেন, তাঁরাও বাজেট কমিয়েছেন এ বার। জেলার গ্রামীণ এলাকার একটি বড় অংশে পুজোর বাজারের এমনই হাল। পরপর কয়েকটি ফসলের উপযুক্ত দাম না মেলার জন্যই এই পরিস্থিতি বলে দাবি বাসিন্দাদের অনেকের। তবে বিক্রেতাদের আশা, অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা সরকারি ক্ষতিপূরণ পেলে বাজার খানিকটা চাঙ্গা হবে।

কৃষি অঞ্চলে পুজোর বাজার অনেকটাই নির্ভর করে ফসলের দামের উপরে। যে বার ভাল দাম মেলে সে বার পুজোর বাজারে কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। এ বার পরিস্থিতি বেশ খারাপ। চাষিরা জানান, গত বছর দেড়েক ধরে ধান, আলু, পাটের মতো ফসলে লাভ হয়নি। চলতি মরসুমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু হলেও প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়। হাজার-হাজার বিঘে জমি জলের তলায় চলে গিয়েছিল। নষ্ট হয় ধানের চারা, পাট, সব্জি। জমি থেকে জল নামলে ফের অতিরিক্ত খরচ করে চাষিদের জমি তৈরি করতে হয়। তা করতে গিয়ে দেনাও হয়। চাষিরা জানান, পুজোর আগে মাঠ থেকে পাট ওঠে। অনেকেই পাট বিক্রি করে পুজোর বাজার সারেন। কিন্তু এ বার বৃষ্টিতে কালনা, কাটোয়া মহকুমায় বেশির ভাগ জমির পাটও নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

মন্তেশ্বরের চাষি গোবিন্দ ঘোষের কথায়, ‘‘এ বারও ধান বিক্রি করছি। তবে দাম অন্য বছরের থেকে বস্তা পিছু আড়াই থেকে তিনশো টাকা কম। বিক্রি করে যা পাওয়া যাচ্ছে তার থেকে চাষ করতে বেশি খরচ হয়েছিল।’’ জমি থেকে আলু তোলার পরে বেশির ভাগ চাষি ফসল বিক্রি করতে পারেননি। সমবায়, ব্যাঙ্ক এবং মহাজনি ঋণ থাকা সত্ত্বেও চাষিরা হিমঘরে আলু রেখেছিলেন পরে লাভজনক দাম মেলার আশায়। কালনা ২ ব্লকের আলু চাষি প্রণব ভট্টাচার্য জানান, আলুর বর্তমানে বন্ডের দাম দেড়শো টাকার আশপাশে। তা-ও কেনার লোক নেই। কী ভাবে নতুন জামাকাপড় কেনা হবে, বুঝতে পারছি না।’’

Advertisement

এরই প্রভাব পড়েছে বাজারগুলিতে। কালনা, ধাত্রীগ্রাম, সমুদ্রগড়, পারুলিয়া, মেমারি, সাতগাছিয়ার মতো বাজারে ভিড় নেই। ব্যবসায়ীরা জানান, যে ক্রেতারা আসছেন তাঁরা সকলেই প্রায় চাকুরিজীবী। সমুদ্রগড় টাঙ্গাইল তাঁত ব্যাবসায়ী সমিতির সদস্য কার্তিক ঘোষ জানান, ফসলের দাম না থাকায় একে তো সাধারণ মানুষের হাতে টাকা নেই। তার উপরে তাঁতের শাড়ির দামও কিছুটা বেড়েছে। যেটুকু ক্রেতা রয়েছে তারাও কম দামের পাওয়ার লুমের শাড়ি চাইছেন। এই পরিস্থিতিতে এক মাত্র ভরসা সরকারি ক্ষতিপূরণ। সেই টাকা চাষিদের হাতে পৌঁছলে বাজার কিছুটা চাঙ্গা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কালনা শহরের সাহু সরকার মোড়ের পোশাক ব্যবসায়ী সুমিত বসু বলেন, ‘‘ বেশ কিছু নতুন আইটেম এসেছে দোকানে। তবে এখনও পর্যন্ত যা বিক্রি হয়েছে তাতে মন ভরেনি। সরকারি ক্ষতিপূরণের টাকা পুজোর আগে চাষিদের হাতে এলে শেষ দিকে বাজার কিছুটা চাঙ্গা হবে বলে আশা করছি।’’

যার দিকে তাকিয়ে পুজোর বাজার, সেই সরকারি ক্ষতিপূরণের টাকা বিলি কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে? জেলা কৃষি দফতর সূত্রে খবর, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের মধ্যে শতক প্রতি ৫৪ টাকা বিলি করা হবে। জেলায় মোট বিলি হবে ১৭১ কোটি টাকা। যার মধ্যে কালনা মহকুমাতেই ৬৫ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে কালনা, পূর্বস্থলী ১, পূর্বস্থলী ২-সহ বেশ কিছু ব্লকে কৃষি দফতরের চেক বিলি শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে পুজোর আগে সমস্ত চাষি ক্ষতিপূরণের টাকা হাতে পাবেন, সে নিশ্চয়তা নেই। কৃষি দফরের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের দাবি, এক দিকে দফতরের কর্মী সঙ্কট রয়েছে, আবার বহু চাষির খাজনা দেওয়া বাকি। জেলার সহ-কৃষি আধিকারিক পার্থ ঘোষ জানান, পুজোর আগে যত বেশি সম্ভব চাষির হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy