গরমে ভোট কর্মীদের জন্য জলের পাউচের ব্যবস্থা করছে কালনা মহকুমা প্রশাসন। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের বর্ধমান শাখার কাছ থেকে ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার পাউচ জল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এর জন্য খরচ হবে প্রায় এক লক্ষ টাকা।
সম্প্রতি কালনার মহকুমাশাসক সব্যসাচী ঘোষ বিভিন্ন আধিকারিকদের নিয়ে বেশ কয়েকটি নির্বাচনী বৈঠক করেন। সেখানে উঠে আসে পানীয় জলের সমস্যার কথা। প্রশাসনের আধিকারিকেরা আশঙ্কা করেন, গরম যে ভাবে বাড়ছে তাতে ভোটের দিন সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাবেই ভোট কর্মীদের মধ্যে পানীয় জলের বাড়তি চাহিদা থাকবে। সিদ্ধান্ত হয়, বর্ধমান থেকে সাড়ে তিনশো মিলিলিটার পরিমাণের ঠান্ডা জলের পাউচ এনে কালনা নিয়ন্ত্রিত বাজারের চালু না সব্জি হিমঘরে রাখা হবে। পরে তা দেওয়া হবে সমস্ত কর্মীদের। তবে শুধু প্যাকেটের জলই নয়, নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির কমপ্লেক্সের মধ্যে ভোটকর্মীদের ডিস্ত্রিবিউশন ও রিসিভিং কাউন্টারে আরও পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৩ হাজার লিটারের একটি ট্যাঙ্কার বেশ কয়েকবার ভর্তি করে রাখা হবে। ওই ট্যাঙ্কার থেকে জল নেওয়ার জন্য ৩০টি কলও লাগানো হবে। এছাড়াও পুরসভার ৬টি ট্যাঙ্কার ও কালনা ২ ব্লকের ২টি পঞ্চায়েত থেকেও জলের ট্যাঙ্কারের ব্যবস্থা থাকবে। মহকুমাশাসক বলেন, “গুমোট গরমের কথা ভেবে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকবে।” তাঁর দাবি, ভোটে পাউচ প্যাকেটে জল বিলির ঘটনা এই প্রথম। সব্যসাচীবাবু আরও জানান, শুধু ভোট কর্মীদের জন্যই নয়, ভোটারদের জন্যও প্রতিটি বুথে টিউবওয়েল থাকবে। কোথাও নলকূপ খারাপ থাকলেও তা সারিয়ে দেওয়া হবে। বুথে বুথে ভোটারদের জল দিতে একজন কর্মীও থাকবেন বলে তিনি জানান।
মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মহকুমায় ১ হাজার ৫২টি বুথ থাকবে। এর মধ্যে কালনা মহিষমর্দিনী বালিকা বিদ্যালয়ে পাঁচটি বুথ থাকবে, যেগুলি সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত। বুথে মোট ভোট কর্মীদের সংখ্যা ৫ হাজার ৬২ জন। তবে পুলিশ, স্বাস্থ্য কর্মী, যানবাহনের চালক, ভোটে যোগ দেওয়া কর্মীদের মোট সংখ্যা ১২ হাজার ১৩৪ জন। বুথে যাওয়ার আগে এই বিপুল সংখ্যক কর্মীদের হাতে মহকুমা প্রশাসনের তরফে দু’ধরণের কিট তুলে দেওয়া হবে। একটি হল ফাস্ট-এইড কিট। যেখানে গজ, তুলো, স্যাভলন, ব্লেড, প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকবে। আর অন্য টয়লেট কিটের মধ্যে টুথ পেস্ট, সাবান, শ্যাম্পু, তেল, গ্লুকোজ, ওআরএস-সহ আরও নানা জিনিস থাকবে। মহকুমাশাসকের দাবি, বর্ধমান জেলাতেই একমাত্র টয়লেট কিট বিলির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি জানান, ভোটের জন্য মহকুমায় ১৩৫২টি ইভিএম তৈরি রাখা হবে। সোমবার থেকে ইভিএমে প্রার্থীদের নাম নথিভুক্ত করার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।
জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন বলেন, “জেলায় ৬৭৮৪টি বুথ হচ্ছে। প্রত্যেক বুথে অন্তত চার জন কর্মী রয়েছেন। সকলের জন্য টয়লেট কিটের ব্যবস্থা থাকছে।” তিনি আরও জানান, কালনায় যেমন জলের পাউচের ব্যবস্থা থাকছে, দুর্গাপুরে তেমনই ভোট কর্মীদের লেবু জল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।