Advertisement
E-Paper

মিটার কাটতে যেতেই মারধর

নিয়মমাফিক পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ১২ সদস্যের বিদ্যুৎ কর্মী ও আধিকারিকদের একটি দল। কিন্তু শ্যালো পাম্পের মিটারে কারচুপি দেখতে পেয়ে প্রশ্ন করতেই তেড়ে গেলেন পাম্পের মালিক। পরে তাঁর ছেলে লোকলস্কর নিয়ে ওই আধিকারিকদের কয়েকজনকে তাড়া করে বেধড়ক মারধর করেন বলেও অভিযোগ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:০০
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে আহতরা।—নিজস্ব চিত্র।

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে আহতরা।—নিজস্ব চিত্র।

নিয়মমাফিক পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ১২ সদস্যের বিদ্যুৎ কর্মী ও আধিকারিকদের একটি দল। কিন্তু শ্যালো পাম্পের মিটারে কারচুপি দেখতে পেয়ে প্রশ্ন করতেই তেড়ে গেলেন পাম্পের মালিক। পরে তাঁর ছেলে লোকলস্কর নিয়ে ওই আধিকারিকদের কয়েকজনকে তাড়া করে বেধড়ক মারধর করেন বলেও অভিযোগ। শুক্রবার সকাল ৯টা নাগাদ কাটোয়া ১ ব্লকের আলুমপুর পঞ্চায়েতের বরমপুর গ্রামের ঘটনা। ওই পাম্প মালিক ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে কাটোয়া থানায় অভিযোগও করেন ওই আধিকারিকেরা। যদিও ধরা যায়নি দু’জনের কাউকেই।

কয়েক মাস আগেই কাটোয়ার নতুনগ্রামে বেআইনি বালির গাড়ি ধরতে গিয়ে মার খান সেচ দফতরের দুই আধিকারিক। তার জেরে নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগ তুলে চেকপোস্টে পাহারা দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলেন সরকারি কর্মীরা। কিছুদিনের জন্য বন্ধ ছিল সরকারি ভাবে বালি তোলাও। পরে রক্ষী নিয়োগ হওয়ায় ফের কাজ শুরু হয় সেখানে। বাঁকুড়াতেও কিছুদিন আগে বেআইনি বালির ট্রাক ধরতে গ্রামবাসীদের হাতে মার খেয়েছিলেন পাত্রসায়রের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিক। এ দিন কাটোয়ার ঘটনায় আবারও অবৈধ কাজ রুখতে গিয়ে মার খাওয়ায় ঘটনা ঘটল। বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের অনেকেরই প্রশ্ন, এ রকমটা চলতে থাকলে পরিদর্শনে গিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করাটাই তো মুশকিল হয়ে যাবে।

কী ঘটেছিল এ দিন?

Advertisement

বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে জানা যায়, এ দিন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়র হিমাদ্রী ভৌমিক, স্টেশন ম্যানেজার তমালকৃষ্ণ পালিত, সুতীর্থ মল্লিক-সহ কয়েকজন আধিকারিক ও কর্মীদের ১২ জনের একটি দল আলমপুর পঞ্চায়েতের ওই এলাকা পরিদর্শনে যান। কয়েকজন বেণীমাধব সাহা নামে এক জনের শ্যালো পাম্পের মিটার পরিদর্শনে যান। অন্যরাও ধারেকাছেই ঘুরে দেখছিলেন। কর্মীদের দাবি, মিটারে চুরি ধরা পড়তেই বেণীমাধববাবু দাবি করতে থাকেন এলাকার অন্য চাষিরা তাঁর পাম্পঘর থেকে বিদ্যুৎ চুরি করেছে। আধিকারিকেরা নানা প্রশ্ন করে মিটার কাটতে গেলে বচসাও বেধে যায়। তখনই ঘটনাস্থলে দু’তিন জনকে নিয়ে হাজির হন বেণীমাধববাবুর ছেলে হরিগোপাল সাহা। অভিযোগ, হাতের কোদাল নিয়ে আধিকারিকের মারধর শুরু করেন তিনি। পালাতে গিয়ে পড়েও যান অনেকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য দফতরের অন্যেরা এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। কয়েকজনকে কাটোয়া হাসপাতালে ভর্তিও করানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতদের পিঠে, হাতে চোট লেগেছে। তবে তেমন গুরুতর নয় আঘাত। পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাবা-ছেলের খোঁজ চলছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy