Advertisement
E-Paper

মালিকানার কাগজ উধাও, আটকে স্টেডিয়াম সংস্কার

মালিকানা সংক্রান্ত দলিলই উধাও। তাই সরকারি অনুদান এলেও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না আসানসোল স্টেডিয়ামে। বিপাকে পড়েছেন স্টেডিয়াম কমিটির সদস্যেরা। হন্যে হয়ে দলিলের খোঁজ শুরু করেছেন কর্তারা। সম্প্রতি রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতর থেকে একটি চিঠি পান আসানসোল স্টেডিয়াম কমিটির সম্পাদক অমল সরকার।

সুশান্ত বণিক

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০১:১৯
থমকে সংস্কার, বেহাল স্টেডিয়াম।—নিজস্ব চিত্র।

থমকে সংস্কার, বেহাল স্টেডিয়াম।—নিজস্ব চিত্র।

মালিকানা সংক্রান্ত দলিলই উধাও। তাই সরকারি অনুদান এলেও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না আসানসোল স্টেডিয়ামে। বিপাকে পড়েছেন স্টেডিয়াম কমিটির সদস্যেরা। হন্যে হয়ে দলিলের খোঁজ শুরু করেছেন কর্তারা।

সম্প্রতি রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতর থেকে একটি চিঠি পান আসানসোল স্টেডিয়াম কমিটির সম্পাদক অমল সরকার। তিনি জানান, সেই চিঠিতে জানানো হয়েছে, স্টেডিয়ামের সংস্কার ও সীমানা পাঁচিল দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার প্রায় চার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সেই কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। কিন্তু কাজ শুরুর আগে স্টেডিয়াম কমিটিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে একটি ‘নো অবজেকশন’ শংসাপত্র এনে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরে জমা দিতে হবে। কারণ, ওই স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের জমিতে। তাই তারা ‘নো অবজেকশন’ শংসাপত্র না দিলে সরকারি অর্থ সেখানে খরচ করা যাবে না।

স্টেডিয়াম কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চিঠি পাওয়ার পরেই সদস্যদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। কারণ, তাঁরা এত দিন জানতেন, আসানসোল স্টেডিয়ামের জমির মালিকানা কমিটিরই। তাহলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে ‘নো অবজেকশন’ না আনলে অনুদান খরচ করা যাবে না, এই প্রশ্ন উঠছে কেন? স্টেডিয়াম কমিটির সম্পাদক অমলবাবু জানান, ১৯৮৭ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক রাজ্য সরকারকে জমিটি স্টেডিয়াম তৈরির জন্য হস্তান্তর করে। বিনিময়ে রাজ্য সরকার প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে দিয়েছে। সেই থেকে ওই জমির মালিকানা স্বত্ত্ব স্টেডিয়াম কমিটির হয়েছে। জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত দলিলপত্র তৈরি করে স্টেডিয়াম কমিটির কাছেই গচ্ছিত রাখা হয়। অমলবাবু বলেন, “আমরা ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের চিঠি পাওয়ার পরে সেই দলিলের খোঁজ শুরু করি। কিন্তু তা পাওয়া যাচ্ছে না।”

২০১১ সালে স্টেডিয়াম কমিটির চেয়ারম্যান মনোনীত হন আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক। সম্পাদক হন অমলবাবু। ১৯৮৭ সালে যখন স্টেডিয়ামের জমি হস্তান্তর হয়েছিল সেই সময়ে কমিটির কর্তারা বৈধ দলিলটি কোথায় রেখেছিলেন, সে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি অমলবাবু। স্টেডিয়াম কমিটির পুরোন নথি ঘেঁটেও সেই তথ্য মেলেনি বলে কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে।

আসানসোল স্টেডিয়াম সংস্কারের দাবি উঠেছে বহু দিন থেকেই। অমলবাবু জানান, স্টেডিয়ামের এক দিকে সীমানা পাঁচিল নেই। তারের বেড়া দেওয়া আছে। গবাদি পশু ভিতরে ঢুকে যায়। মাঠের ক্ষতি হচ্ছে। মাঠটিকে খেলাধুলোর উপযোগী করে তুলতে হলে আমূল সংস্কার দরকার। প্রয়োজন আরও গ্যালারি ও একটি প্যাভিলিয়নের। সংস্কারের অভাবে পড়ে থাকা এই মাঠে বড়সড় কোনও খেলার আসর বসানো যায় না। অমলবাবু জানান, মন্ত্রী মলয়বাবুকে বিশদ জানিয়ে আবেদন করার পরে রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতর ওই বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। কিন্তু বাধ সেধেছে স্টেডিয়ামের মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র না মেলার ঘটনা। স্টেডিয়াম কমিটির চেয়ারম্যান মলয়বাবু ইতিমধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কলকাতা কার্য়ালয়ের এস্টেট বিভাগে জমির হস্তান্তর সংক্রান্ত কাগজপত্র চেয়ে চিঠি লিখেছেন। তাঁর আশা, সমস্যা দ্রুত মিটে যাবে। কাজও শুরু হবে।

stadium renovation sushanto banik asansol
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy