ক্রেতা সেজে বাদ্যযন্ত্র বিক্রির দোকানে ঢুকে এ দিক-সে দিক ঘুরে দেখছিল চোর। দেওয়ালে ঝোলানো ম্যান্ডোলিন তুলে মোবাইলে তার ছবি তুলছিল সে। বাদ্যযন্ত্রের ছবি তুলে আবার তা যথাস্থানে রেখেও দেয়। কিন্তু সেখানেই ঘোরাঘুরি করছিল সে। আশপাশে তাকিয়ে সুযোগ বুঝে দু’টি ম্যান্ডোলিন তুলে ওভারকোটের ভিতর ঢুকিয়ে দোকান থেকে পালিয়ে গেল চোর। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় এমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
আরও পড়ুন:
‘লার্ক স্ট্রিট মিউজ়িক’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে ফেসবুকের পাতায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে যে, এক চোর পুরনো বাদ্যযন্ত্র বিক্রির দোকানে ঢুকে দু’টি ম্যান্ডোলিন চুরি করে পালাচ্ছে। গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে নিউ জার্সির দোকানের মালিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সেই ভিডিয়োটি ফেসবুকের পাতায় পোস্ট করেন। তিনি জানান, তাঁর দোকান থেকে আশির দশকের দু’টি ম্যান্ডোলিন চুরি হয়ে গিয়েছে। ম্যান্ডোলিন দু’টির দাম ছিল যথাক্রমে ৩৫০০ ডলার এবং ৪২৫০ ডলার। ভারতীয় মুদ্রা অনুযায়ী চুরি যাওয়া দু’টি বাদ্যযন্ত্রের মোট দাম ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ৬১২ টাকা।
ফেসবুকের পাতায় ভিডিয়োটি ছড়িয়ে যাওয়ার দিন কয়েকের মধ্যে চুরি করা জিনিস দোকানে ফেরত দিয়ে গেল চোর। দোকানের মালিকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে চিঠিও লিখল সে। চিঠিতে লেখা, ‘‘দুঃখিত। আমি নেশার ঘোরে ছিলাম। বড়দিনের শুভেচ্ছা। আপনি ভাল মানুষ।’’ দোকানের মালিকের দাবি, দু’টি বড় ব্যাগে ম্যান্ডোলিনগুলি রেখে সেই চোর সঙ্গে সঙ্গে পালিয়ে যায়। তার পিছনে ছুটেও নজরের আড়ালে চলে যায় চোরটি।
গ্রেফতারির জন্য এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ম্যান্ডোলিন দু’টি ফিরে পাওয়ায় চিঠি-সহ বাদ্যযন্ত্রগুলির ছবি পোস্ট করে নেটাগরিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন দোকানের মালিক। এই সুখবর পেয়ে অবশ্য এক নেটব্যবহারকারী মজা করে লিখেছেন, ‘‘চোরেরও যে আত্মোপলদ্ধি হয় তা জেনে ভাল লাগল। নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে।’’