Advertisement
E-Paper

শহরে দোকানে ভিড়, গ্রামে বাজার মন্দাই

কোথাও ধান-আলুর দাম না মেলা, টানা বৃষ্টিতে খুশির ইদেও মুখ ভার, আবার কোথাও ইদ আর রথযাত্রার আনন্দে বেচাকেনা দ্বিগুন— বাজার ঘুরে এমন দু’ধারার ছবিই দেখা গেল জেলা জুড়ে। এমনিতে কৃষিপ্রধান জেলায় ধান-আলু-সব্জির দাম মেলার উপরে আনন্দ, কেনাকাটি অনেকখানিই নির্ভর করে। অনেকেই ধান বিক্রির টাকা জমিয়ে রাখেন বছরের এই দিনে ছেলেমেয়ে, পরিবারের লোকেদের উপহার দেওয়ার জন্য।

কেদারনাথ ভট্টাচার্য ও উদিত সিংহ

শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৫ ০১:৫৪
দোকানে সাজানো রয়েছে সিমুই, তবে ভিড় নেই।

দোকানে সাজানো রয়েছে সিমুই, তবে ভিড় নেই।

কোথাও ধান-আলুর দাম না মেলা, টানা বৃষ্টিতে খুশির ইদেও মুখ ভার, আবার কোথাও ইদ আর রথযাত্রার আনন্দে বেচাকেনা দ্বিগুন— বাজার ঘুরে এমন দু’ধারার ছবিই দেখা গেল জেলা জুড়ে।
এমনিতে কৃষিপ্রধান জেলায় ধান-আলু-সব্জির দাম মেলার উপরে আনন্দ, কেনাকাটি অনেকখানিই নির্ভর করে। অনেকেই ধান বিক্রির টাকা জমিয়ে রাখেন বছরের এই দিনে ছেলেমেয়ে, পরিবারের লোকেদের উপহার দেওয়ার জন্য। কিন্তু এ বছর ধান বা আলু কোনওটাতেই দাম মেলেনি বলে চাষিদের দাবি। ফলন বেশি হওয়ায় আমেও লাভ হয়নি। তারপরে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সব্জি খেতে এবং আমনের জমিতে টানা জল জমে বীজতলা নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলেও জানাচ্ছেন পূর্বস্থলী, নাদনঘাট, কাটোয়ার বহু চাষি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই এ দিকের ইদের বাজারের রমরমা অনেকটাই ম্লান। ব্যবসায়ীরাও জানাচ্ছেন, অন্যান্য বার রমজান মাসের দিন পনেরো পেরোতেই ভিড় উপচে পড়ে দোকানে। নানা ধরনের সালোয়ার কামিজ থেকে , রংবাহারি শাড়ির জন্য গ্রামগঞ্জ থেকেও আসেন ক্রেতারা। কিন্তু এ বার সেই ভিড় অনেকটাই ফিকে।
বর্ধমান শহরে অবশ্য ছবিটা অনেকটাই আলাদা। রানিগঞ্জ, তেঁতুলতলা, বড় বাজার এলাকায় বৃষ্টির ফাঁকে ফাঁকেই শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা সারছেন বাসিন্দারা। জামাকাপড়, জুতো তো বটেই, হার-দুল, আতর, সুরমা সবই বিকোচ্ছে দেদার। ব্যবসায়ীরা জানান, এ বার মাসের মাঝামাঝি ইদ পড়ায় পকেটে টান কিছুটা কম। বিক্রিও ভালই হচ্ছে। অনল দেবনাথ নামে আর এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘‘বেশি করে জামাকাপড় এনেছি। ইদের পাশাপাশি রথের জন্যও টুকটাক বিক্রি হচ্ছে।’’ তবে ক্রেতাদের দাবি, সব জিনিসেরই দাম বহুগুন বেড়ে গিয়েছে। আগের বার শ’পাঁচেক মধ্যে ভাল শাড়ি পাওয়া গেলেও এ বার আরও শ’খানেক দাম বেড়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। তবে দোকানদারদের দাবি, কলকাতা থেকে জিনিস আনতেই অনেক বেশি দাম প়ড়ছে। তাই খুচরো দামও বেড়েছে। তবে দামের হেরফেরেও ক্রেতার ভিড় ভালই।

কালনা শহরে যদিও অনেক দোকানিই অপেক্ষা করছেন ক্রেতার। বৈদ্যপুর মোড়ের শপিং মলটির মালিকদের তরফে আশিস হালদার যেমন জানান, খরিদ্দারদের বেশিরভাগই গ্রামের। ধারাবাহিক ভাবে চাষে মার খাওয়ায় বেশিরভাগই বাজেট অনেকে কমিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র যে সমস্ত পরিবারের সদস্যেরা কোনও না কোনও কাজে ভিন রাজ্যে রয়েছেন, তাঁদের কেনাকাটি তুলনায় বেশি। ব্যবসায়ীদের দাবি, মন্দার বাজারে বেশি বিক্রি হচ্ছে মুম্বই শার্ট। লম্বা ঝুল এবং টাইট ফিটিংয়ের এই জামার দাম মোটামুটি ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা। আবার গোলগলা টি-শার্টেরও বাজার ভাল। ২৮০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত দামে এই টি-শার্ট মিলছে। মেয়েদের পোশাকে অবশ্য আনারকলি সালোয়ার, লাচা ফ্রক, পাখি চুড়িদারের চাহিদা রয়েছে। শাড়ির মধ্যে হ্যান্ডলুম ও বিভিন্ন ডিজাইনের সিল্কের শাড়ি ভাল বিকোচ্ছে। কিন্তু তাতেও বাজার একেবারেই মন্দা বলে দোকানদারদের দাবি। কালনার শাহু সরকার মোড়ের একটি দোকানের মালিক সুমিত বসু বলেন, ‘‘কেনা কাটা করবেন কি করে চাষিরা, ফসলের দামই তো নেই।

বর্ধমানের বি সি রোডে চলছে কেনাকাটি। নিজস্ব চিত্র।

Advertisement

প্রত্যাশার ধারে কাছে ব্যবসা হয়নি।’’ বাজারেই দেখা মেলে নাদনঘাটের আকবর মোল্লার। তিনি বলেন, ‘‘সমবায়-মহাজন সবার কাছে প্রচুর ঋণ। এই অবস্থায় নতুন করে কেউ টাকা দিতে চাইছেন না। বাড়ির ছোটদের কেনা হয়েছে। বড়রা এখনও বাকি। জানি না এ বার শেষ পর্যন্ত সবাইয়ের কাছে নতুন পোশাক পৌঁছবে কি না।’’ কুসুমগ্রামের গৃহবধূ সাকিরা বিবিও বলেন, ‘‘অনেয বার ইদের আগে নানা শিবির করে জামাকাপড়, খাদ্যদ্রব্য দেওয়া হয়। এ বার তেমন শিবিরও হয়নি।’’

জামাকাপড়ের পাশাপাশি সব্জি-মিঠাইয়ের বাজারেও তেমন সাড়া নেই বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। সমুদ্রগড়ের সিমুই ব্যাবসায়ী মজিম শেখও বলেন, ‘‘প্রতিবারই সিমুইয়ের দোকান করি। কলকাতা থেকে পাইকারি দরে কিনে এলাকায় বিক্রি করি। অন্যান্য বার বেশ কয়েকবার মাল আনতে হয়। এ বার বিক্রিই হচ্ছে না।’’ সপ্তাহখানেকের মধ্যে সব্জির দামও আকাশ ছুঁয়েছে বলে বাসিন্দাদের দাবি। সব্জি ব্যাবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে সব্জি পচে যাওয়ায় বাজার আগুন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy