Advertisement
E-Paper

সুদিনেও এক সময়ের ঘাঁটিতে থমকে বিজেপি

মোদী ঝড়ে রাজ্য জুড়ে বিজেপির ভোট বাড়লেও বর্ধমানে বিজেপির ঘাঁটি বলে পরিচিত পূর্বস্থলী উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রেই সেভাবে প্রভাব পড়ল না। ভোট না বাড়ার কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই কাটা-ছেঁড়া শুরু হয়েছে জেলা বিজেপির অন্দরে। ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রে বিজেপি পেয়েছিল ২৩,২৪৬টি ভোট। ২০১১-র বিধানসভায় তা কমে দাঁড়ায় ১৭,২২২। আর দক্ষিণ কেন্দ্রে ২০০৯ সালে প্রাপ্ত ১৩,৭৫৬ ভোট কমে দাঁড়ায় ১০,৭৬৫-এ। এ বারের লোকসভা ভোটে বর্ধমানের ১৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে ২০১১-র তুলনায় যেখানে তিন থেকে পনেরো শতাংশ অবদি ভোট বেড়েছে, সেখানে পূর্বস্থলীর দুটি বিধানসভায় ভোট বেড়েছে দ্বিগুনের সামান্য বেশি।

কেদারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০১৪ ০০:৫৭

মোদী ঝড়ে রাজ্য জুড়ে বিজেপির ভোট বাড়লেও বর্ধমানে বিজেপির ঘাঁটি বলে পরিচিত পূর্বস্থলী উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রেই সেভাবে প্রভাব পড়ল না। ভোট না বাড়ার কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই কাটা-ছেঁড়া শুরু হয়েছে জেলা বিজেপির অন্দরে।

২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রে বিজেপি পেয়েছিল ২৩,২৪৬টি ভোট। ২০১১-র বিধানসভায় তা কমে দাঁড়ায় ১৭,২২২। আর দক্ষিণ কেন্দ্রে ২০০৯ সালে প্রাপ্ত ১৩,৭৫৬ ভোট কমে দাঁড়ায় ১০,৭৬৫-এ। এ বারের লোকসভা ভোটে বর্ধমানের ১৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে ২০১১-র তুলনায় যেখানে তিন থেকে পনেরো শতাংশ অবদি ভোট বেড়েছে, সেখানে পূর্বস্থলীর দুটি বিধানসভায় ভোট বেড়েছে দ্বিগুনের সামান্য বেশি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যেখানে সংগঠন বেশি শক্তিশালী সেখানে মোদী ঝড়ের তেমন প্রভাব পড়ল না কেন? জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই দলীয় স্তরে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপির স্থানীয় এক নেতার কথায়, “পূর্বস্থলীর দুটি বিধানসভা এলাকায় প্রচুর পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মানুষ রয়েছেন। তাঁদের একটা বড় অংশের ভোট যায় বিজেপিতে। তবে এ বার শ্রীরামপুরে প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদীর অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে মন্তব্যে বিতর্ক দেখা দেয়। সেটাকেই হাতিয়ার করে তৃণমূল।” ওই নেতার দাবি, “ওই মন্তব্যে কিছুটা রঙ চড়িয়ে মানুষকে ভুল বোঝায় তৃণমূল। এর একটা প্রভাব পড়ে ওই দুই ব্লকে।” বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রে এ বার প্রার্থী ছিলেন বিজেপির জেলা সম্পাদক সন্তোষ রায়। তিনি জানান, দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। সাংগঠনিক দুর্বলতা দেখা গেলে দল কড়া ব্যবস্থা নেবে।” বিজেপির জেলা সভাপতি রাজীব ভৌমিক বলেন, “পূর্বস্থলী উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রে আরও বেশি ভোট পাওয়ার আশা ছিল। কেন এমন হল, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।”

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দুই কেন্দ্র নিয়ে এ বার দল আগে থেকেই সতর্ক ছিল। বিধানসভা ভোটের পর থেকেই বহু নেতা কর্মী ও তাঁদের সঙ্গে বহু বিজেপি সমর্থক তৃণমূলে যোগ দেয়। ফলে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে বিজেপি। তৃণমূল নেতাদের একাংশের দাবি, মন্ত্রী তথা বিধায়ক স্বপনবাবুর কৌশলেই এ কাজ সম্ভব হয়েছে। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসা বেশ কিছু নেতাকে পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদের টিকিট দিয়েছিলেন তিনি। গত পঞ্চায়েত ভোটে ওই বিধানসভার একমাত্র নসরৎপুর পঞ্চায়েতেই বোর্ড গড়েছিল বিজেপি। পরে অবশ্য কয়েকজন বিজেপি সদস্য তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় দখল চলে যায় তৃণমূলের হাতে। বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক কিছুটা কমে ধাত্রীগ্রাম এলাকাতেও। ফলে পঞ্চায়েত নির্বাচনে যেখানে তৃণমূলের ব্যবধান ছিল ২৭০০, তা লোকসভায় বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩১৮। পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রেও বিজেপির বহু নেতা কর্মী তৃণমূলে যোগ দেয়। পঞ্চায়েত ভোটে সব আসনে প্রার্থীও দিতে পারেনি বিজেপি। স্বপনবাবুর বক্তব্য, “মোদী ঝড়ের প্রভাব পূর্বস্থলীতে পড়েনি। সিপিএমের একটা বড় অংশ আঁতাত করে ওদের ভোট না দিলে এই ভোটও ওরা পেত না।” আর আগামী দিনে বিজেপির প্রভাব নিয়ে তৃণমূল সাংসদ সুনীলকুমার মণ্ডল জানান, আগামীতে এলাকা জুড়ে এত উন্নয়ন হবে যে বিজেপিকে চোখেই পড়বে না।

modi strom kedarnath bhattacharya
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy