শীতের আমেজ মানেই বাঙালির কাছে-পিঠে বেড়াতে যাওয়া। আর রং-বেরঙের পাখি দেখতে চাইলে অনেকেরই গন্তব্য থাকে পূর্বস্থলীর চুপি গ্রাম। কিন্তু বছর খানেক ধরেই পূর্বস্থলীর পাখিরালয়টি নিয়ে পরিকাঠামোগত বিস্তর অভিযোগ উঠছিল বিভিন্ন মহল থেকে। তা ছাড়া চোরাশিকারিদের উৎপাতে পরিযায়ী পাখির সংখ্যাও কমেছে বলে দাবি পর্যটকদের। এ বার সেই সব অভিযোগকে দূরে সরিয়ে পাখিরালয়টির সংস্কার করতে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।
চুপি গ্রাম দিয়ে বয়ে গিয়েছে ছাড়িগঙ্গা। শীত পড়তেই এখানে পরিযায়ী পাখির দলের দেখা মেলে। বেশ কয়েকটি পাখির প্রজাতি ডিমও পাড়ে সেখানে। পেরেগ্রিন ফ্যালকন, ইউরেশিয়ান উইজন-সহ বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি ভিড় করে এই জলাশয়ে। প্রায় এক দশক আগে জলাশয়টিকে ঘিরে তৈরি হয় পাখিরালয়। তবে ওয়াচ টাওয়ার, পাখিদের বিবরণ দেওয়া লম্বা বোর্ড, পাখি দেখার জন্য নৌকা, পর্যটকদের বসার জায়গা, পাখিরালয়মুখী রাস্তা-সহ বেশ কয়েকটি পরিকাঠামো বেহাল হয়ে পড়ে। তা ছাড়া নজরদারি না থাকায় জলাশয়ে শুরু হয় স্থানীয় জেলেদের মাছ ধরা, চোরাশিকারিদের উৎপাত। তা ছাড়া পিকনিকের সময় তারস্বরে বক্স বাজানোও দ্বস্তুর হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে কমতে থাকে পরিযায়ী পাখির সংখ্যাও। ক্রমে তারা নদিয়ার দিকে সরে যেতে থাকে।
পর্যটকেরা অভিযোগ করতে থাকেন বেহাল পরিকাঠামো নিয়েও। গাড়ি পার্কিং-এর জায়গা না থাকাতেও বিপাকে পড়েন পর্যটকেরা। ছাড়িগঙ্গার পাড়ে ভাঙন শুরু হওয়ায় সঙ্কটের মুখে পড়ে পাখিরালয়ের অস্তিত্বই।
বছর চারেক আগে পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে পাখিরালয়টি পরিদর্শনে আসেন তৎকালীন পর্যটন মন্ত্রী রচপাল সিংহ। তিনি জানান, পাখিরালয়ের সংস্কারে মোট ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা অর্থ সাহায্য করা হবে। প্রথম দফায় মেলে ৪২ লক্ষ টাকা। ওই টাকায় কাছাকছি কাষ্ঠশালী প্রাথমিক স্কুল থেকে পিকনিকের চত্বর পর্যন্ত তৈরি করা হয় ঢালাই রাস্তা। পূর্বস্থলী ২ পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে মিলেছে বাকি এক কোটি টাকা। ওই টাকায় পাখিরালয় সংলগ্ন এলাকায় তিন বিঘে জমির উপর তৈরি করা হবে একটি দোতলা বাড়ি। ওই বাড়ির একতলায় পার্কিং ও দোতলায় পর্যটকদের থাকার জায়গা থাকবে। ওয়াচ টাওয়ারে পৌঁছনোর জন্য শক্ত পাথরের তৈরি একটি ৫০০ মিটার রাস্তা তৈরি হচ্ছে। পাড় বাঁধার কাজও শুরু হয়েছে জোরকদমে। ফুল ও বাহারি গাছ লাগিয়ে গোটা পাখিরালয়টির সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির দাবি, গত বছর তিনেক ধরে পাখিরালয়টিতে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। জলাশয় থেকে মাছ ধরাও বন্ধ হয়েছে বলে দাবি। একশো দিনের প্রকল্পে জলাশয় থেকে কচুরিপানা তোলার কাজও চলছে।
তবে সব কাজ এখনই শেষ হয়নি বলে জানা গিয়েছে। পাখি দেখতে পর্যটকদের নৌকোর দরকার। আপাতত তাও নেই। তবে নৌকোর জন্য পর্যটন দফতরের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। বিধায়ক তপনবাবুর আশা, ‘‘সব ঠিক থাকলে মাস দু’য়েকের মধ্যে নতুন চেহারায় ফিরবে পাখিরালয়।’’