দু’দলেরই তাগিদ শূন্যের গেরো কাটানোর। কেন্দ্র ও রাজ্যের দুই শাসক দল বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দু’দলেরই মূল সুর এক। তবে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতিতে দু’পক্ষই এখনও অপর পক্ষের পদক্ষেপ মাপতে থাকার কৌশল নিয়ে চলেছে!
কেরলের রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমে রবিবার সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শেষ হয়েছে কংগ্রেস সম্পর্কে সংশয়ী মনোভাব রেখেই। তবে রাজ্যের পরিস্থিতি বুঝে সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সংশ্লিষ্ট রাজ্য দলের উপরে ছেড়ে রেখেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কংগ্রেস সেই পর্যন্তও যায়নি এখনও। বরং, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি কেন্দ্রকে পাঁচটি ‘জ়োনে’ (অঞ্চল) ভাগ করে প্রার্থী বাছাই শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে এআইসিসি-র গঠিত স্ক্রিনিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রদেশ নির্বাচন কমিটির (পিইসি) বৈঠকে। সূত্রের খবর, কলকাতার বিধান ভবনে ওই বৈঠকে এসে স্ক্রিনিং কমিটির চেয়ারম্যান বি কে হরিপ্রসাদ বলেছেন, জোটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে তাঁরা অপারগ। এই বিষয়ে যা ঠিক করার, এআইসিসি-র উপযুক্ত নেতৃত্বই করবেন। প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ নেতৃত্বের সঙ্গে এআইসিসি-র আনুষ্ঠানিক বৈঠক এখনও বকেয়া রয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের দফতর বিধান ভবনে এ দিন স্ক্রিনিং কমিটির হরিপ্রসাদ, মহম্মদ জাভেদ, মমতা দেবী, এআইসিসি-র পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর, সহ-পর্যবেক্ষক অম্বা প্রসাদ, ওয়ার রুম কমিটির চেয়ারম্যান বি পি সিংহেরা প্রথমে আলোচনায় বসেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর সঙ্গে। পরে স্ক্রিনিং কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতেই পিইসি-র বৈঠক হয়েছে। সেখানে রাজ্যের জেলাগুলিকে প্রেসিডেন্সি, মেদিনীপুর, বর্ধমান, মালদহ ও জলপাইগুড়ি— এই তিন অঞ্চলে ভাগ করে বিধানসভা আসন ধরে প্রস্তুতি শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকের পরে পর্যবেক্ষক মীর বলেছেন, ‘‘এটা আমাদের নির্বাচন কমিটির প্রথম বৈঠক ছিল। পাঁচ ভাগে ভেঙে কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের এই মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে প্রথম রিপোর্ট দিতে হবে।’’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘তরুণ, শিক্ষিত, তফসিলি জাতি ও জনজাতি মুখে জোর দিতে চাই আমরা। মোট আসনের অন্তত ৪০%-এ তরুণ প্রার্থী থাকবে, এই লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছি।’’
বাউড়িয়ায় যুব কংগ্রেসের সভায় অধীর চৌধুরী। — নিজস্ব চিত্র।
কংগ্রেস কি তবে ২৯৪টি আসনে লড়বে বলেই প্রার্থী বাছাই করতে নেমে পড়ছে? মীরের জবাব, ‘‘আপাতত তা-ই।’’ কংগ্রেস সূত্রের খবর, পিইসি বৈঠকে দলের বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেছেন, রাজ্যে একা লড়াই করার মতো শক্তি তাঁদের কত দূর আছে, সেটা আগে ভেবে নেওয়া ভাল। ‘বাস্তব’ বুঝে জোটের কথা ভাবতে হবে। এই বৈঠকে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী অবশ্য ছিলেন না। হাওড়ার বাউড়িয়ায় যুব কংগ্রেসের ডাকে ‘মনরেগা বাঁচাও’ কর্মসূচিতে তিনি বক্তা ছিলেন, সেখানে বিজেপি ও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। এআইসিসি-র সিনিয়র পর্যবেক্ষকদের আজ, সোমবার কলকাতায় প্রদেশ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা, অধীরের তখন থাকার কথা দিল্লিতে।
সিপিএম সূত্রের খবর, তিরুঅনন্তপুরমে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে জবাবি বক্তৃতায় দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি নানা রাজ্যে কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে সংশয়ের সুরই রেখেছেন। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ বন্ধ করেননি। একই সঙ্গে দেশে বাম রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতার স্বার্থে কেরলে সরকার বাঁচানোর জন্য সর্বাত্মক লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)