‘জয় শ্রীরাম’ বলে বাঁকুড়ায় হেলমেটে মুখ ঢেকে লোকজন হামলা চালিয়েছিল বিজেপি ও সিপিএমের রাজ্য নেতাদের উপরে। অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এ বার পুরুলিয়ার বলরামপুরে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে হামলা চলল তৃণমূল কর্মীদের উপরে। অভিযুক্ত বিজেপি।
বাঁকুড়ার রানিবাঁধের পরে জঙ্গলমহলের আর এক আদিবাসী প্রধান ব্লক বলরামপুরে বিজেপি-র সঙ্গে টক্কর হল তৃণমূলের। বুধবার দুপুরে জমা পড়া মনোনয়নের ‘স্ক্রুটিনি’ চলার সময়ে বলরামপুরে ব্লক অফিসের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ‘জয় শ্রীরাম’ জিগির তুলে দোকানে লুকিয়ে থাকা তৃণমূল কর্মীদের টেনে বার করে লাঠিপেটা করা হয় বলেও অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি, গুরুতর চোট পান দলের বলরামপুর তেঁতলো অঞ্চল সভাপতি সুধীরচন্দ্র মাহাতো-সহ ন’জন। সুধীরবাবু পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপি-র দাবি, তৃণমূলের মারে আহত হন তাদের বলরামপুর মণ্ডল সভাপতি অশ্বিনী সিংহ সর্দার-সহ তিন কর্মী।
এ দিন ব্লক অফিসের গেটের পাশ থেকে বিজেপি-র জমায়েতকে পুলিশ সরাতে গেলে গোলমাল বাধে। বিজেপি-র অভিযোগ, পুলিশ তাদের সরিয়ে তৃণমূলের লোকেদের জায়গা করে দিচ্ছিল। পুলিশ সে অভিযোগ মানেনি। ইতিমধ্যে, দু’পক্ষের মধ্যে ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, খবর পেয়ে কিছু দূরে মোটরবাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিজেপি-র দুষ্কৃতীরা লাঠি, রড
নিয়ে এসে তাদের বেধড়ক মারধর শুরু করে।
বিজেপি-র জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘তৃণমূলের লোকেরাই প্রথমে আমাদের কর্মীদের মারে। পরে এলাকার বাসিন্দারাই রুখে দাঁড়ান।’’ তবে জেলা পরিষদের বিদায়ী সভাধিপতি তথা বলরামপুরের তৃণমূল নেতা সৃষ্টিধর মাহাতোর অভিযোগ, ‘‘বিজেপি-র বহিরাগত দুষ্কৃতীরাই আমাদের লোকেদের মারধর করে গাড়ি ভাঙচুর করে। দলীয় পতাকাও পুড়িয়ে দেয়। পুলিশের সামনেই সব ঘটে।’’ যদিও জেলা পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাসের দাবি, ‘‘পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ঠিক নয়।’’
আরও পড়ুন: পঞ্চায়েত ভোটের গতিপ্রকৃতি কোন পথে যাবে, হাইকোর্টে আজ নজর সব পক্ষের
বাম আমলে বলরামপুর মাওবাদী উপদ্রুত হয়ে পড়ে। বাম জমানার শেষ দিকে প্রভাব বাড়ায় তৃণমূল। এখন এই ব্লকের সাতটি পঞ্চায়েতের ৯২টি আসনে একটিতেও বিজেপি নেই। তবুও প্রতিরোধের শক্তি তারা পেল কী করে? বিজেপি-র জেলা সম্পাদক তথা বলরামপুরেরই বাসিন্দা সুভাষ দাসের দাবি, ‘‘আদিবাসীদের উন্নয়নে তৃণমূল সরকার কিছুই করেনি। আদিবাসীরা বিজেপিকেই ভরসা করছেন।’’ ঘনিষ্ঠ মহলে সিপিএমের একাংশও মানছেন, তাদের কিছু কর্মী বিজেপিতে গিয়েছেন। যদিও সৃষ্টিধরবাবুর দাবি, ‘‘তৃণমূল জমানায় আদিবাসীদের উন্নয়নের অভাব হয়নি। বিজেপি বাইরে থেকে লোক এনে গণ্ডগোল করছে।’’