পঞ্চায়েত নির্বাচনে স্পর্শকাতর বুথে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছে বিরোধীরা। রাজ্য নির্বাচন কমিশনও তেমনটাই চায়। কিন্তু কী ভাবে বাছা হবে স্পর্শকাতর বা অতি স্পর্শকাতর বুথ, তার কোনও দিশা নেই জেলাশাসক-পুলিশ সুপারদের কাছে। কারণ, নির্বাচন কমিশন বুথের চরিত্র বিচার করার নির্দেশ দিলেও, তার ভিত্তি কী হবে সে সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা পাঠায়নি। ফলে এক একটি জেলা এক এক রকম শর্তে বুথের স্পর্শকাতরতা বাছাই করছে বলে জানা গিয়েছে।
নবান্নের এক সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, ৫৮ হাজার বুথের মধ্যে ১১ হাজার বুথে কোনও ভোট হবে না। যে ৪৭ হাজার বুথে ভোট হবে তার ১০-১২% এর বেশি স্পর্শকাতর হওয়ার কথা নয়। জেলাশাসক-পুলিশ সুপাররা সেই হিসাব করছেন।
আগামী সপ্তাহে ফের হাইকোর্টে উঠবে পঞ্চায়েত মামলা। তখনই রাজ্য সরকার এবং কমিশনকে বুথভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানাতে হবে। যদিও শনিবার পর্যন্ত সব জেলা থেকে তা কমিশনে এসে পৌঁছায়নি বলে জানা গিয়েছে। এক জেলাশাসক জানান, কোনও বুথে ৯০%-এর বেশি ভোট প়ড়লে, বিজয়ী প্রার্থীর ভোটপ্রাপ্তি ৭৫%-এর বেশি হলে, অতীতে ভোটের দিনে হিংসার নজির থাকলে সেগুলিকে অতি স্পর্শকাতর হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। কিন্তু এ বার নির্দিষ্ট নির্দেশ না থাকায় সে সব কিছুই হচ্ছে না।
নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন নিয়ে কমিশনের উপরেই দায় চাপিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।
তা হলে কিসের ভিত্তিতে স্পর্শকাতর বুথ বাছা হচ্ছে? এক জেলাশাসক জানান, জেলায় পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা বিচার করেই অতি স্পর্শকাতর ও স্পর্শকাতর বুথ বাছা হচ্ছে। যদিও কমিশনের এক কর্তার কথায়, ‘‘স্পর্শকাতর বুথ বাছাই করার পরই বাহিনী চাওয়া হয়। এ বার উল্টো হচ্ছে। জেলাগুলির রিপোর্ট পেলেই কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।’’
এ হেন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টকেও গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। ইতিমধ্যেই কয়েকটি জেলার রিপোর্ট এসেছে। আগামিকাল, সোমবারের মধ্যে সব জেলার রিপোর্ট আসার কথা। বুথে পুলিশ মোতায়েন কেমন ভাবে হবে, তা নিয়ে অবশ্য রাজ্য সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে রয়েছে কমিশন। তাদের যুক্তি, নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের ভার সরাসরি কমিশনের হাতে নেই। তাই রাজ্য সরকারের উপরেই অনেকাংশে নির্ভর করতে হয়। কমিশন এ ভাবে রাজ্যের দিকে কোর্টে বল ঠেললেও নিরাপত্তা বিষয়ে পাল্টা কমিশনের উপরেই দায় চাপিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুব্রতবাবু বলেন, ‘‘নিরাপত্তার দায়িত্ব কমিশনের। কমিশনার মনে করলে নিরাপত্তা দেবেন, না হলে দেবেন না। নিরাপত্তা দেবে বলেই তো ভোটের আয়োজন করছে কমিশন।’’
এ দিকে, মঙ্গলবার হাইকোর্টের নির্দেশ দেখার পরেই ভোট গণনার দিন ঘোষণা করতে পারে কমিশন। গণনা সংক্রান্ত বাকি নির্দেশগুলি রবিবার থেকে দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি, কিছু বুথে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে কমিশন। কতগুলি বুথে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে, রবিবার তা স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।