Advertisement
E-Paper

পথ রুখে মিছিল নয়, বলল হাইকোর্ট

হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্য জুড়ে যে-সব বড় ও প্রধান সড়ক রয়েছে, তা পুরোপুরি আটকে কোনও জনসভা বা মিছিল করা যাবে না। ওই সব রাস্তায় যদি জনসভা বা মিছিল হয়, যান চলাচল ও পথচারীদের যাতায়াতে যাতে কোনও অসুবিধা না-হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশ ও প্রশাসনকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মে ২০১৮ ০৫:১৫

বছর পনেরো আগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সিঙ্গল বেঞ্চ। কিন্তু বড় বড় রাস্তায় মিছিল-মিটিং বন্ধ হয়নি।

এত দিন পরে বড় রাস্তা আটকে মিটিং-মিছিল করার উপরে একই নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। রাস্তা কতটা মুক্ত থাকে, সেটাই দেখার।

হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্য জুড়ে যে-সব বড় ও প্রধান সড়ক রয়েছে, তা পুরোপুরি আটকে কোনও জনসভা বা মিছিল করা যাবে না। ওই সব রাস্তায় যদি জনসভা বা মিছিল হয়, যান চলাচল ও পথচারীদের যাতায়াতে যাতে কোনও অসুবিধা না-হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশ ও প্রশাসনকে।

২০০৩ সালে হাইকোর্টে যাওয়ার পথে মিছিলে আটকে পড়ে নাকাল হয়েছিলেন তৎকালীন বিচারপতি অমিতাভ লালা। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা ঠুকে কলকাতার প্রধান আটটি রাস্তায় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মিটিং-মিছিলের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন তিনি। তার পরেও কলকাতা এবং জেলার প্রধান বড় রাস্তা আটকে মিটিং-মিছিল করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ধর্মীয় শোভাযাত্রাও হয়েছে ওই সব রাস্তায়।

২০১৫ সালে ঋতুপর্ণা সরকার দত্ত নামে এক আইনজীবীর জনস্বার্থ মামলায় এ দিন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। মামলার আবেদনে বলা হয়, রাস্তা আটকে মিটিং-মিছিলের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করুক আদালত। মামলায় যুক্ত করা হয় কলকাতার সিপি এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে। হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুরের ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনকারিণীর আইনজীবী শ্রীকান্ত দত্তকে নির্দেশ দেন, নথিভুক্ত প্রধান রাজনৈতিক দলগুলিকে এই মামলায় যুক্ত করতে হবে। কিন্তু সিপিএম ছাড়া আর কোনও দল মামলায় যুক্ত হয়নি।

সিপিএমের পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, সংবিধান মিটিং-মিছিল করার মৌলিক অধিকার দিয়েছে নাগরিকদের। সিপিএম রাস্তা পুরো আটকে জনসভা বা মিছিল করে না। রাজ্যের হয়ে আইনজীবী অমিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ও দাবি করেন, প্রশাসন বা পুলিশ পুরো রাস্তা আটকে মিটিং বা মিছিল করার অনুমতি দেয় না। জনসভা বা মিছিলের জন্য যান চলাচল থমকে থাকে না। পথচারীদেরও অসুবিধা হয় না। বিশেষ একটি রাজনৈতিক দল ধর্মতলা চত্বরে রাস্তা আটকে কী ভাবে জনসভা করে, নথি ও ছবি দাখিল করে তা জানান শ্রীকান্তবাবু।

ওই আইনজীবী পরে জানান, ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, নাগরিকদের জনসভা বা মিছিল করার অধিকার থাকলেও পুলিশ-প্রশাসনকে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy