E-Paper

শিলংয়ে ভাঙা হবে বিধান রায়ের বাড়ি

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র শুধু নবীন বঙ্গের নন, আধুনিক শিলংয়েরও অন্যতম রূপকার। তাঁর বাবা প্রকাশচন্দ্র রায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল শিলংয়ে ব্রাহ্ম সমাজের প্রচারে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ০৭:০৬
বিধানচন্দ্র রায়।

বিধানচন্দ্র রায়। — ফাইল চিত্র।

শিলংয়ে বিধানচন্দ্র রায়ের ঐতিহ্যবাহী বাড়ি বাঁচানো সম্ভব হল না। আদালতের নির্দেশে সেখানে বিধানচন্দ্রের স্মৃতি বলতে থাকবে একটি আবক্ষ মূর্তি। লাবানের ওই বাড়িটি এখন সার্কিট হাউস। বাড়ির বেশির ভাগ অংশ পুরনো হওয়ায় এবং সার্কিট হাউসে স্থানাভাব দেখা দেওয়ায় বাড়িটি ভেঙে নতুন করে গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মেঘালয় সরকার। সেই ‘বিধান ভবন’ বাঁচাতে রাজ্যপালকে স্মারকপত্র দেওয়ার পাশাপাশি রবীন্দ্র অনুরাগী মালবিকা বিশারদ শিলং হাই কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৌমেন সেনের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেন। তার ভিত্তিতেই জনস্বার্থ মামলা শুরু হয়।

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র শুধু নবীন বঙ্গের নন, আধুনিক শিলংয়েরও অন্যতম রূপকার। তাঁর বাবা প্রকাশচন্দ্র রায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল শিলংয়ে ব্রাহ্ম সমাজের প্রচারে। বিধানচন্দ্র ১৯২০ সালে শিলংয়ের লাবানে এসে এই বাড়ি তৈরি শুরু করেন। তিনিই শিলং শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথিকৃৎ। মালবিকা জানান, ১৯২৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলংয়ে থাকাকালীন বিধান ভবনে যেতেন। ওই বাড়িতে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনও উদ্‌যাপন করা হয়েছিল। ১৯২৯ সালে সুভাষচন্দ্র বসু তৃতীয় বার শিলং সফরে এসে বিধান ভবনেই ছিলেন। মালবিকা ওই বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে, সেটিকে ঐতিহ্যশালী ভবন ঘোষণা করা ও সংরক্ষণের কথা বলেছিলেন।

শুনানির সময়ে কোর্টের নির্দেশে মেঘালয় হেরিটেজ কর্তৃপক্ষ ভবনটি পরিদর্শন করে জানান, মেঘালয় হেরিটেজ রেগুলেশনস অনুযায়ী বাড়িটি ঐতিহ্যবাহী ভবন হওয়ার প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করছে না। ভবনটি জরাজীর্ণ। পূর্ত দফতর কোর্টে রিপোর্ট দিয়ে জানায়, লাবান সার্কিট হাউসের প্রাঙ্গণে পরিকল্পিত বাগান তৈরি করে সেখানে বিধানচন্দ্র রায়ের মূর্তি স্থাপন করা যেতে পারে। এ সংক্রান্ত নকশা ও ছবি কোর্টে জমা দেওয়া হয়। সব দিক বিবেচনার পরে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রেবতী মোহিতে দেরে ও বিচারপতি ওয়ানলুরা ডিয়েংডোর বেঞ্চ মামলা নিষ্পত্তির ঘোষণা করে জানায়, পুরনো ভবন জরাজীর্ণ হওয়ায় সেখানে নতুন ভবন বানাতেই হবে। তবে যথাযোগ্য মর্যাদায় বসানো হবে বিধানচন্দ্র রায়ের আবক্ষ মূর্তি ও স্মারক ফলক।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Assam

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy