কার্যকরী সভাপতি হিসেবে নয়, সব ঠিক থাকলে বিজেপি সভাপতি হিসেবে পুরোদস্তুর দায়িত্ব নিয়েই ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গ সফরে যাবেন নিতিন নবীন। সে ক্ষেত্রে চলতি মাসের শেষে বা ফেব্রুয়ারির গোড়ায় কেন্দ্রীয় বাজেটের পরেই পশ্চিমবঙ্গে পা দেবেন বিজেপির নতুন সভাপতি। অবশ্য ইতিমধ্যেই বঙ্গবাসীর সঙ্গে জনসংযোগের কাজ শুরু করে দিয়েছেন নিতিন। পয়লা জানুয়ারি কল্পতরু দিবসে পৌঁছে গিয়েছেন দিল্লির রামকৃষ্ণ মিশনে।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখল অত্যন্ত কঠিন কাজ হলেও দলের বর্তমানে যা শক্তি এবং যা চোরাস্রোত রয়েছে, তাতে বিজেপির ক্ষমতায় আসা প্রায় নিশ্চিত বলে আজ দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতা। তাঁর কথায়, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। দীর্ঘ আন্দোলনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। কিন্তু পনেরো বছর সরকারে থেকেও হেলায় সুযোগ হারিয়েছেন তিনি। তাই রাজ্যের মানুষ এখন তাঁর হাত থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে টক্কর দেওয়ার মতো মুখ যে রাজ্য বিজেপিতে নেই, তা ঘরোয়া ভাবে স্বীকার করে নিচ্ছেন অনেক বিজেপি নেতাই। সে কারণে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানের ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গেও কোনও নেতাকে মুখ না করে দলবদ্ধ ভাবে লড়ার কথা ভাবছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলের ওই নেতার কথায়, ‘‘এখনও পর্যন্ত কাউকে মুখ করা হবে বলে ঠিক হয়নি।’’ শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্নে ওই নেতার ব্যাখ্যা, ‘‘তিনি বিরোধী দলনেতা। ভাল কাজ করছেন।’’
ভোটের আগে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন হুমায়ুন কবীর। রাজনীতিকদের একাংশের মতে, মূলত বিহারে যেমন আসাদুদ্দিন ওয়েইসির দল আরজেডি-কংগ্রেসের ভোট কেটে এনডিএ-র সুবিধা করে দিয়েছিল, এ ক্ষেত্রে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই হুমায়ুনকে ব্যবহার করছে গেরুয়া শিবির। এই যুক্তি অবশ্য মানতে চাননি ওই কেন্দ্রীয় নেতা। তাঁর পাল্টা যুক্তি, ‘‘হুমায়ুন যা করছেন, তা তৃণমূলের নির্দেশ করছেন। মুর্শিদাবাদের হিন্দু ভোট যাতে তৃণমূলের ঘরে আসে, সেই কারণে মেরুকরণের রাজনীতি করছে তৃণমূল। কারণ, লোকসভায় বহরমপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর ভোটপ্রাপ্তি চিন্তায় রেখেছে তৃণমূলকে।’’ তবে বিজেপির একাংশ মনে করছে, যে ভাবে বাংলাদেশে হিন্দু নিধনের একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে, তাতে সংখ্যালঘু এলাকাতে সামগ্রিক ভাবে হিন্দু ভোটের মেরুকরণ হবে। ভোটের বাক্সে তার ফায়দা পাবেন বিজেপি প্রার্থীরা, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে। একই ভাবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিয়েছেন ওই নেতা। তাঁর মতে, ‘‘একই আশঙ্কা বিহারে করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও প্রভাব পড়েনি। পশ্চিমবঙ্গেও এর প্রভাব দেখাযাবে না।’’
আগামী ৮ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছেন বিজেপির বর্তমান সভাপতি জে পি নড্ডা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের মন্ত্রকের বৈঠকে যোগ দিতে কলকাতায় গেলেও, ওই দিন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকও করবেন তিনি। জাতীয় সভাপতি হিসেবে এটিই সম্ভবত নড্ডার শেষ পশ্চিমবঙ্গ সফর। তার পরেই ১৭-১৮ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীনরেন্দ্র মোদী।
বিজেপি সূত্রের মতে, আগামী ১৪ জানুয়ারি সংক্রান্তির পরে নতুন বিজেপি সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। আর তা শেষ হওয়ার পরেই ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে সভাপতি হিসেবেই সফর শুরু করবেন নিতিন নবীন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)