মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠির পাল্টা হিসেবেই ফের দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী দেশের নির্বাচন কমিশনের চিঠি দেওয়ার পাল্টা রবিবার সকালেই তিনি ওই চিঠিটি পাঠিয়েছেন।
এর আগে ৪ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী একই ভাবে চিঠি দিয়েছিলেন জ্ঞানেশকে। ৫ জানুয়ারি পাল্টা একটি চিঠি লিখেছিলেন শুভেন্দু্। রবিবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। চিঠিতে নন্দীগ্রাম বিধায়ক দাবি করেছেন, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর)-র প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যেসব অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এই ভোটার তালিকায় সংশোধনী প্রক্রিয়া ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
শুভেন্দুর মতে, বাংলায় অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এসআইআর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে দাবি করেছিলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, মুখ্যমন্ত্রী দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ মনগড়া, এমন দাবির সপক্ষে কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। এসআইআর-এর সঙ্গে এই ধরনের মৃত্যুর যোগসূত্রের কোনও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। অমর্ত্য, দেব, শামি-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শুনানির নোটিস পাঠানো নিয়ে বিরোধী দলনেতার যুক্তি, আইনের চোখে সকলেই সমান, সেখানে কোনও ব্যতিক্রমের সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চতুর্থ চিঠিতে অভিযোগের সুরে লিখেছেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী, ক্রিকেটার মহম্মদ শামি এবং অভিনেতা-সাংসদ দেবের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। শুনানির প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি পাঠানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা চিঠি দিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী যখন তিন পাতার চিঠিতে অভিযোগ তুলেছেন, সেখানে বিরোধী দলনেতা তাঁর চিঠিতে একে একে সেই সব অভিযোগ খণ্ডন করার চেষ্টা করেছেন।
চিঠির শেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন জানিয়ে শুভেন্দু লিখেছেন, “রাজনৈতিক চাপ বা বিভ্রান্তিমূলক কৌশল উপেক্ষা করে যেন এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হয়। নির্বাচন ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ রাখতে এই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসা কোনও ভাবেই কাম্য নয়।” পরে সমাজমাধ্যমে নিজের চিঠি প্রসঙ্গে নন্দীগ্রামের বিধায়ক লেখেন, “আমি ভারতের মাননীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার শ্রী জ্ঞানেশ কুমারকে একটি চিঠি লিখেছি, যেখানে ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা ভিত্তিহীন, অতিরঞ্জিত ও ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তোলা অভিযোগগুলোর জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছি।” তিনি বলেন, “আমি আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই, মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবিগুলি আসলে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দেওয়ার এক মরিয়া চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। কারণ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ভোটার তালিকায় দীর্ঘদিনের পচন ধরা পড়ছে—ভুয়ো নাম, দ্বৈত এন্ট্রি এবং অনুপ্রবেশকারীদের অস্তিত্ব, তৃণমূলের আমলেই যাঁদের বছরের পর বছর লালন-পালন করা হয়েছে। এতে তাদের নির্বাচনী সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেই এখন তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে এমন সব কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে।”