তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধারের বাড়ি এবং দফতরে ইডি-র তল্লাশি চলাকালীন সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়ার ঘটনায় শুক্রবারও সরব দিল্লি ও রাজ্যের বিজেপি নেতারা সরব থাকলেন। শুরু হয়েছে পথের প্রতিবাদও। কিন্তু কলকাতায় প্রায় ৪৮ ঘণ্টা থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি করলেও এই নিয়ে কোনও কথা বললেন না বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎ প্রকাশ নড্ডা!
মুখ্যমন্ত্রীর ওই পদক্ষেপ প্রসঙ্গে বিজেপি সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ এ দিন দিল্লিতে বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী ইডি অফিসারদের হুমকি দিয়ে কাগজপত্র ছিনিয়ে নিচ্ছেন, এমন ঘটনা স্বাধীনতার পরে ভারতে হয়নি। মমতার এই পদক্ষেপ অনৈতিক, অসংবিধানিক। উনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে লজ্জায় ফেলেছেন। ওঁর ওই কাণ্ড দেখে বোঝা যাচ্ছে তিনি গোপনীয় কিছু লুকোতে চাইছেন। এমন কিছু, যা সামনে এলে তিনি ও তাঁর দল সমস্যায় পড়তে পারে।”
সরব হয়েছেন বিজেপির রাজ্য-নেতারাও। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইডি-র আদালতে আবেদনকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিরোধী নেতার বক্তব্য, “ইডি হাই কোর্টে যা আবেদন করেছে, মানুষ তা-ই চেয়েছিলেন। ইডি-র তরফে তদন্তে হস্তক্ষেপ করা নিয়ে আদালতে যা বলা হয়েছে, তাতে অত্যন্ত খুশি। বাংলার মানুষ ব্যবস্থা গ্রহণ দেখতে চান।” বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও কোচবিহারে দলীয় সভা থেকে বলেছেন, “রাজ্যে সরকার নেই। যে মুখ্যমন্ত্রী কয়লা, বালি কেলেঙ্কারিতে যুক্ত নিজের দলের চোরদের বাঁচানোর জন্য ফাইল কাড়েন, সেই রাজ্যে কোনও সরকার থাকতে পারে না!” প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, “গত কাল দেখেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর কেমন দৌড় হয়েছে। সবে শুরু। আরও দৌড় হবে। এখন উনি দুর্নীতির প্রতীক। চুরি আগে দেখেছি। ডাকাতি প্রথম দেখলাম।” পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার দাবিতে এ দিন দুপুরে লোকভবনে (রাজভবনের বর্তমান নাম) গিয়ে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করেছে বিজেপির পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। ছিলেন দলের নেতা শিশির বাজোরিয়া, লকেট চট্টোপাধ্যায়, শশী অগ্নিহোত্রী, ফাল্গুনী পাত্র, ইন্দ্রনীল খাঁ।
বিজেপি শুরু করেছে পথের প্রতিবাদও। ‘ফাইল চোর মমতা’ স্লোগানকে সামনে রেখে ধর্মতলায় রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চা এবং লেক ক্লাবের সামনে মহিলা মোর্চা বিক্ষোভ দেখিয়েছে। রাজ্যের নানা প্রান্তেও হয়েছে বিক্ষোভ।
তবে এই সবের মধ্যেও রাজ্য সফরে এসে আগাগোড়া নীরব ছিলেন নড্ডা। এই সূত্রেই বিজেপি-তৃণমূল আঁতাঁতের যে অভিযোগ সিপিএম, কংগ্রেস ধারাবাহিক তুলছে, সেই ‘তত্ত্বে’র পালে হাওয়া জোগাবে কি না, তা নিয়েও চর্চা রয়েছে বিজেপির অন্দরে। যদিও বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, “বিষয়টি ইডি-র। যা করার তাদেরই করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কাণ্ডের আমরা সর্বাত্মক প্রতিবাদ করছি। দিল্লির সদর দফতর থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। সব কিছুতে প্রধানমন্ত্রী, সর্বভারতীয় সভাপতি প্রতিক্রিয়া দেবেন, এমন কোনও বিষয় নেই। বিজেপি তো তৃণমূল নয় যে, সব কিছুই মমতা। এখানে কাঠামো মেনে প্রত্যেকের দায়িত্ব ভাগ রয়েছে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)