পশ্চিমবঙ্গ সফর সেরে দিল্লি ফেরার এক সপ্তাহের মধ্যেই ফের রাজ্য বিজেপি-কে নিয়ে বৈঠকে বসছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। রাজ্যে নয়, দিল্লিতেই বৈঠকটি ডেকেছেন নবীন। পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক বিজেপি সাংসদকে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। রাজ্যসভার মনোনীত সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলাও বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও উত্তরপূর্ব উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সুকন্ত মজুমদারের সরকারি বাসভবনের সেই বৈঠকে রাজ্য বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকেরাও থাকবেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে।
আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বৈঠকটি ডেকেছেন নিতিন। সাংসদদের নিয়ে বসছেন বলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ বৈঠক ডাকা হয়েছে। কারণ, দিনভর সাংসদেরা লোকসভা এবং রাজ্যসভায় ব্যস্ত থাকবেন। দিনের অধিবেশন শেষ হওয়ার পরে সকলে পৌঁছোবেন সুকান্তের বাংলোয়। এ রাজ্য থেকে লোকসভায় রয়েছেন বিজেপির ১২ জন। রাজ্যসভায় রয়েছেন তিন জন— শমীক ভট্টাচার্য, অনন্ত মহারাজ এবং হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। এই ১৫ জনের পাশাপাশি ডাকা হয়েছে সুনীল বনসল, মঙ্গল পাণ্ডে, ভূপেন্দ্র যাদব, বিপ্লব দেব এবং অমিত মালবীয়কে। মোট ২০ জনকে নিয়ে আলোচনায় বসবেন নিতিন। বৈঠক শেষে থাকছে নৈশভোজও।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে নিতিন দিল্লিতে প্রথম বৈঠকটিই করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নেতাদের সঙ্গে। যাতে বোঝা গিয়েছিল, দলের নতুন সভাপতি হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। সভাপতি হিসাবে তাঁর প্রথম রাজ্য সফরও পশ্চিমবঙ্গেই। গত ২৭ এবং ২৮ জানুয়ারি দুর্গাপুর ও রানিগঞ্জে কাটিয়েছেন নবীন। দু’টি কর্মী সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ সফর সেরে ফেরার ছ’দিনের মাথায় ফের নিতিনের অগ্রাধিকারের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রস্তুতি।
সুকান্তের দিল্লির বাসভবনে এর আগেও পশ্চিমবঙ্গের সাংসদদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু সে বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সভাপতির উপস্থিতি এই প্রথম। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে কী থাকবে, সে বিষয়ে কোনও সাংসদই মুখ খুলতে চাননি। তবে বিজেপি সূত্রের খবর, নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েই আলোচনা হবে। প্রস্তুতিপর্বে তথা প্রচারে সাংসদদের ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়ে সাংসদ সঙ্গে এবং পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে নিতিনের বিশদ আলোচনা হতে পারে। সাংসদদের ভূমিকা তথা দায়দায়িত্বের রূপরেখাও ওই বৈঠকে নির্ধারিত হতে পারে।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক নিজেও সাংসদ। তিনিও বৈঠকে থাকবেন। তাই সাংগঠনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনাতেও বাধা থাকবে না। বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, দুর্গাপুরে রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির সঙ্গে নিতিন যখন বৈঠক করেছিলেন, তখনই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, আপাতত ১৫ দিন অন্তর তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির গতিবিধি সম্পর্কে রিপোর্ট নেবেন। নিতিন দুর্গাপুর থেকে ফেরার পরে ১৫ দিন কাটার আগেই বৈঠক হতে চলেছে। তাই ‘পাক্ষিক রিপোর্ট’ দেওয়া-নেওয়ার মতো কোনও বিষয় থাকছে না। কিন্তু নিতিনের বৈঠকের পরে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সাংসদদের উপর নির্বাচনী অভিযান সংক্রান্ত বেশ কিছু নির্দিষ্ট দায়দায়িত্ব আসতে পারে বলে অনেকের অভিমত।