E-Paper

এত অশান্তি কেন, গুজরাতের হিসাব দেখিয়ে প্রশ্ন বিজেপির

৯ রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষকর্তারা প্রশ্ন তুলেছেন, গুজরাতের ভোটার তালিকা থেকে মৃত, অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত ও ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত করে ১৩ শতাংশের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৩০

—প্রতীকী চিত্র।

বিহারের পরে নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর শুরু করেছিল। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ বাদে বাকি নয় রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বেরিয়ে গেল।

এই ৯ রাজ্যের মধ্যে এসআইআর-পূর্ববর্তী তালিকা থেকে সবথেকে বেশি হারে ভোটারের নাম বাদ গেল বিজেপি শাসিত গুজরাত, ছত্তীসগঢ় ও গোয়ায়। গুজরাতে প্রায় ১৩.৪ শতাংশ, ছত্তীসগঢ়ে ১১.৭ শতাংশ, গোয়ায় ১০.৮ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছে। ভোটমুখী কেরলে ভোটার তালিকায় প্রায় ৩.২৪ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছে। বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানে ৬ শতাংশের কাছাকাছি নাম বাদ গিয়েছে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে আন্দামান-নিকোবরে সবথেকে বেশি ১৬.৮ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছে।

৯ রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষকর্তারা প্রশ্ন তুলেছেন, গুজরাতের ভোটার তালিকা থেকে মৃত, অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত ও ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত করে ১৩ শতাংশের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে খসড়া তালিকায় মাত্র ৭.৬ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছিল। তা হলে রাজ্যের শাসক শিবির কোন যুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের নাম বেআইনি ভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলছে?

নির্বাচন কমিশন শুক্রবার একই যুক্তি দিয়েছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নায়ডু প্রশ্ন তুলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে খসড়া ভোটার তালিকায় মাত্র ৭.৬ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেছিলেন, গুজরাতে তার থেকে অনেক বেশি নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বাদ গিয়েছে। কমিশনের অভিযোগ ছিল, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই অশান্তি হচ্ছে। রাজ্য সরকার অসহযোগিতা করছে। আজ মোদী সরকারের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ তুলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস ভোটার তালিকায় বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়ে বিধানসভা ভোটে জিততে চাইছে। সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর-এর কাজে বিচারবিভাগীয় অফিসারদের নিয়োগ করে তৃণমূলের মুখোশ খুলে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে এ বার এসআইআর-এর কাজে সহযোগিতা করতেই হবে।

উল্টো দিকে তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, কত নাম বাদ যাচ্ছে, সেটা আসল প্রশ্ন নয়। আসলে নির্বাচন কমিশন বেছে বেছে বিজেপি বিরোধী দলগুলির ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিব্বলের যুক্তি ছিল, গুজরাতে ১৩ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছে বলেই পশ্চিমবঙ্গে যোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে, এই যুক্তি খাটে না।

ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে বিজেপির বিরোধী দলের ভোটার-সমর্থকদের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে রাহুল গান্ধী একাধিক বার অভিযোগ তুলেছেন। শনিবার নতুন করে কংগ্রেস এই অভিযোগ তুলেছে। রাজস্থানে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে দেখা গিয়েছে, প্রায় ৫.৪৬ কোটি ভোটারের মধ্যে ৩১.৩৬ লক্ষ নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বাদ গিয়েছে। এর মধ্যে রাজস্থানের কংগ্রেস নেতা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌতের বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই ৫১ হাজারের বেশি নাম বাদ গিয়েছে।

বিহারে প্রথম এসআইআর শুরু করেছিল কমিশন। বিহারে ৫.৯৫ শতাংশ নাম বাদ যায়। তার পরে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, মধ্যপ্রদেশ, কেরল, গোয়া, পুদুচেরি, আন্দামান-নিকোবর, লক্ষদ্বীপে এসআইআর শুরু করে কমিশন। এর মধ্যে গুজরাত, লক্ষদ্বীপ, পুদুচেরির চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বুধবার প্রকাশিত হয়েছিল। শনিবার রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড়, কেরল, আন্দামান-নিকোবর, গোয়ার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। বাকি তিন রাজ্যের মধ্যে উত্তরপ্রদেশে চার বার দিনবদলের পরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১০ এপ্রিল প্রকাশিত হবে। যোগী-রাজ্যে খসড়া তালিকায় সবথেকে বেশি, ১৮.৭% নাম বাদ যায়। ভোটমুখী তামিলনাড়ুর ভোটার তালিকা ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে। তামিলনাড়ুতেও খসড়া তালিকায় প্রায় ১৫.২% নাম বাদ গিয়েছে। আর পশ্চিমবঙ্গে ২৮ ফেব্রুয়ারি যতটা কাজ শেষ হবে, সেই হিসেবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। তবে সেটাই শেষ তালিকা নয়। তারপরে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হতে পারে বলে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR BJP TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy