Advertisement
E-Paper

বিজেপির বাইক মিছিল ঘিরে রাজ্য জুড়ে ধুন্ধুমার

দুর্গাপুরে বিজেপির বাইক মিছিলে যোগ দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মিছিল আটকায় পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০১৯ ০৪:৪০
মারমুখী: আসানসোলে বিজেপির কর্মসূচিতে পুলিশের উপরে হামলা। রবিবার। ছবি: পাপন চৌধুরী

মারমুখী: আসানসোলে বিজেপির কর্মসূচিতে পুলিশের উপরে হামলা। রবিবার। ছবি: পাপন চৌধুরী

বিজেপির মোটরবাইক মিছিল ঘিরে রবিবার দিনভর বিক্ষিপ্ত অশান্তি হল রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। বিজেপির অভিযোগ, কোথাও তৃণমূল, কোথাও পুলিশ তাদের কর্মসূচিতে হামলা করেছে।প্রশাসন এবং শাসক তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্য, রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার চলছে বলে পুলিশ বিজেপির ওই কর্মসূচিতে অনুমতি দেয়নি। তা সত্ত্বেও তারা জোর করে ওই কর্মসূচি করেছে।

লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পগুলির প্রচারের জন্য দেশ জুড়ে মোটরবাইক মিছিলের কর্মসূচি নিয়েছিল বিজেপি। এ রাজ্যে এ দিন তা নিয়ে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— সর্বত্রই উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব়ড়সড় অশান্তির খবর এসেছে বালুরঘাট, জলপাইগুড়ির বোদাগঞ্জ, কোচবিহারের চিলকিরহাট, পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়, দাঁতন, কলকাতার যাদবপুর এবং জোড়াবাগান-সহ নানা জায়গা থেকে। কয়েকটি জায়গায় পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি জায়গায় আক্রমণের পাল্টা অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে।

দুর্গাপুরেবিজেপির বাইক মিছিলে যোগ দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মিছিল আটকায় পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই-সহ শতাধিক কর্মীকে।বারাবনিতেবাইক মিছিল থামাতে গেলে আসানসোল উত্তর থানারপুলিশের উপরে চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। যদিও আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ের বক্তব্য, ‘‘সমস্ত থানাকেরুট ম্যাপ দিয়ে আবেদন জানিয়েই মিছিল করেছি। মিছিলেমাইক ছিল না।মঞ্চ বাঁধা হয়নি।নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণ মিছিলের আয়োজনহয়। প্ররোচনা ছাড়াইমিছিলে সন্ত্রাস চালায় পুলিশ।’’ বারাবনির মদনপুরে তৃণমূলের একটি কার্যালয়ে ভাঙচুরেরও অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তবে তা মানতে চাননি বাবুল।

ঝান্ডা উঁচিয়ে: পুলিশকে মারতে উদ্যত বিজেপির এক কর্মী। রবিবার বালুরঘাটে। ছবি: অমিত মোহান্ত

বাইক মিছিলে বাধা পেয়ে বালুরঘাটের মঙ্গলপুর হিলি মোড় এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। অভিযোগ, তখন পুলিশের লাঠির ঘায়ে জখম হন অন্তত ২০ জন। ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ওই ঘটনায় বিক্ষোভকারীরাও লাঠি হাতে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। তাতে চোট পান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশিস নন্দী। পুলিশ অবশ্য লাঠি চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলারপুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী বলেন,‘‘বিক্ষোভকারীদের লাঠি উঁচিয়ে হটিয়ে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের উপর হামলা, জাতীয় সড়ক অবরোধ, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’ পুলিশ জানায়, মোটরবাইক মিছিলের জন্য কলকাতায় ১৩৫জন এবং ব্যারাকপুর মহকুমায় ১২৫ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের দাবি, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় রাজনৈতিক সভা বা মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয় না। তাই এ দিন বিজেপিকে ওই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বিজেপির উদ্দেশ্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দাঙ্গা বাধানো। তাই ওরা বাইক মিছিল করেছে। বেআইনি কাজের মোকাবিলা করবে প্রশাসন। আমরা দলের পক্ষ থেকে মানুষকে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন করি, করব।’’ দিলীপবাবুর জবাব, সারা দেশেই শান্তিপূর্ণ ভাবে বাইক মিছিল হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কোনও কিছুতেই তাঁদের অনুমতি দেয় না সরকার। দিলীপবাবুর কথায়, ‘‘পরীক্ষা চলছে বলেই আমরা রবিবার বেছে নিয়েছিলাম। গোটা দেশেই বোর্ডের পরীক্ষা চলছে। কোথাও কোনও অশান্তি হয়নি। এখানে পুলিশ আর তৃণমূলই অশান্তি তৈরি করেছে। পার্থবাবুরা আমাদের ভয় পাচ্ছেন বলেই সব কিছুতে দাঙ্গা দেখছেন।’’

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে বলে বিজেপির বাইক মিছিল পুলিশ আটকালেও এ দিন মাইক বাজিয়ে তৃণমূলের কর্মিসভা হয়েছে পাঁশকুড়ায়। নারায়ণদিঘি ফুটবল ময়দানে পাঁশকুড়া শহর তৃণমূল আয়োজিত ওই কর্মিসভায় লাগানো হয় ৯টি মাইকের চোঙ। যা যথেষ্ট জোরে বেজেছে বলেই স্থানীয় মানুষের অভিযোগ। পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সভায় গিয়ে মাইকের আওয়াজ কমানোর নির্দেশ দেন। যদিও পাঁশকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান নন্দকুমার মিশ্রর দাবি, ‘‘পরীক্ষার জন্য নয়,মঞ্চে কম্পন বেশি হওয়ার জন্য মন্ত্রী আওয়াজ কমাতে বলেছিলেন।’’

BJP Bike rally বিজেপি
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy