E-Paper

অন্নপূর্ণা যোজনার কাজে আপত্তি, বিএলও-বিক্ষোভ

বালুরঘাটে বিক্ষোভ দেখানো বিএলও-দের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় আইনে রয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষা বহির্ভূত কোন কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে। অন্নপূর্ণা যোজনা তার মধ্যে পড়ছে না।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ০৭:৩২

—প্রতীকী চিত্র।

বাড়ি-বাড়ি অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলি, পূরণে সহায়তা এবং সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষুব্ধ বিএলও-রা (বুথ লেভেল অফিসার)। রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) পর্ব থেকে কাজ করে আসা শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রশ্ন তুলেছেন, স্কুলের পড়াশোনার কাজ সামলে কেন রাজ্য সরকারের প্রকল্পের দায়িত্ব নেওয়া এবং সে সুবাদে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তাঁদের! শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি, ব্লক অফিসে স্মারকলিপি দেন তাঁরা। শুক্রবার বিএলও-বিক্ষোভ হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা ৩ ব্লক অফিসে বিডিওর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে শিক্ষকদের।

বালুরঘাটে বিক্ষোভ দেখানো বিএলও-দের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় আইনে রয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষা বহির্ভূত কোন কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে। অন্নপূর্ণা যোজনা তার মধ্যে পড়ছে না। তাঁদের দাবি, নির্বাচন, জনগণনা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা ছাড়া, তাঁরা নতুন করে এ কাজ করবেন না। স্মারকলিপি জমা দিতে আসা বদলপুর হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, ‘‘নথি জমা দেওয়ার পরেও অনেকের নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি। তার দায় বিএলওদের ঘাড়ে পড়েছিল। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণে গোলমাল হলে, যদি কেউ টাকা না পান, তাঁরা আবার আমাদেরই দোষারোপ করবেন।’’ বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, তাঁরা এখনও বিএলও হিসাবে নানা কাজ করে চলেছেন। স্কুলের কাজ থেকে ছাড় পাননি। তা ছাড়া, অন্নপূর্ণা যোজনায় কাজের ব্যাপারে শিক্ষা দফতর থেকেও নির্দেশিকা জারি হয়নি। বসিরহাটের শিক্ষক শুভঙ্কর ঠাকুর বলেন, ‘‘আমরা শিক্ষাঙ্গনে ফিরতে চাই।’’ একই কারণে শুক্রবার এক প্রস্ত তর্কাতর্কির পরে, গড়বেতা ৩ ব্লকের বিডিও দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য নোটিস দিয়ে বিএলও-দের অন্নপূর্ণা যোজনার কাজে সহযোগিতা করার আবেদন জানান।

সমাজমাধ্যমে মানবাধিকার কর্মী রঞ্জিত শূরের প্রশ্ন, বিএলও-রা নির্বাচন কমিশনের কর্মী। রাজ্য সরকার কী ভাবে তাঁদের উপরে অন্নপূর্ণা যোজনার কাজ চাপাতে পারে! লিখেছেন, ‘এ রাজ্যে রাজ্য সরকার আর কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন কি স্থায়ী ভাবে একই হয়ে গেল’?

বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘এ বিষয়ে কিছু বলব না।’’ দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বালাসুব্রমনিয়ন টি ফোন ধরেননি, মোবাইল-বার্তার জবাব দেননি। তবে বিজেপির ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক গৌতম কৌড়ি বলেন, ‘‘বিএলও-রা এসআইআরের কাজ দক্ষতার সঙ্গে করেছেন। অন্নপূর্ণা যোজনার কাজেও তাঁরা দক্ষতা দেখাবেন, এই আশায় রাজ্য সরকার তাঁদের উপরে ভরসা রাখছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Annapurna Yojana BLO

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy