Advertisement
E-Paper

টোলে নগদ লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ, বাস-মিনিবাস মালিকদের কড়া হুঁশিয়ারি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে

ওয়েস্ট বেঙ্গল বাস অ্যান্ড মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে এই প্রতিবাদপত্র দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, টোল প্লাজা দিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে দায়ী থাকবে সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১২:৫৫
Bus and minibus owners protest decision to discontinue cash toll payments, warn the National Highways Authority

টোল প্লাজায় নগদ লেনদেন বন্ধের বিরোধীতায় পশ্চিমবঙ্গ বাস ও মিনিবাস মালিকদের সংগঠন। —ফাইল চিত্র।

জাতীয় সড়কের টোল প্লাজাগুলিতে নগদ লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ করার কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল পশ্চিমবঙ্গ বাস ও মিনিবাস মালিকদের সংগঠন। সম্প্রতি সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রকের ২১ ফেব্রুয়ারির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশ জুড়ে টোল প্লাজায় নগদ লেনদেন বন্ধ করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হবে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। ওয়েস্ট বেঙ্গল বাস অ্যান্ড মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে এই প্রতিবাদপত্র দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, টোল প্লাজা দিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে দায়ী থাকবে জাতীয় সড়ক মন্ত্রক। এমনিতে ১ এপ্রিল থেকে ডিজিটাল লেনদেন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি পাঁচ টাকা করে টোল মূল্য বাড়ানো হচ্ছে বলে পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর।

সংগঠনের দাবি, রাজ্যের অনেক রুটের বাস প্রতিদিন একাধিক বার টোল প্লাজা অতিক্রম করে এবং বর্তমান ব্যবস্থায় সকালে একবার নগদ টোল দিয়ে সারাদিনের জন্য পাস নেওয়া হয়। নতুন নিয়ম চালু হলে সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে ইউপিআই বা ফাস্ট্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিবার টোল দিতে হলে খরচ বেড়ে যাবে, যা স্থানীয় রুটের বাস মালিকদের পক্ষে বহন করা কঠিন।

চিঠিতে তারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও দিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে— রুটের বাসগুলিকে ছাড়প্রাপ্ত শ্রেণিতে রাখা ও নগদ লেনদেন চালু রাখা, ইউপিআই ব্যবহারে অতিরিক্ত চার্জ না বাড়ানো, টোল প্লাজায় বাসের জন্য পৃথক লেন তৈরি করা এবং জাতীয় সড়কে ধীরগতির যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা। এ ছাড়াও সার্ভিস রোডে অবৈধ পার্কিং বন্ধ ও যানজট কমাতে একাধিক পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনের তরফে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যদি নগদ লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তা হলে তারা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন রুটের বাস পরিষেবা প্রত্যাহার করতে পারে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক সাধারণ যাত্রী ভোগান্তির মুখে পড়বেন এবং পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপনারায়ণ বসু বলেন, ‘‘যাত্রী বাস পরিবহণের ক্ষেত্রে জাতীয় সড়কে ২৪ ঘণ্টা যাতায়াত করতে ২১৫ টাকা টোল দিতে হয়। কিন্তু নতুন নিয়মে সেই খরচ ২৭৫ টাকা হচ্ছে। পাশাপাশি এখনও এমন অনেক চালক রয়েছেন, যাঁদের অ্যান্ড্রয়েড ফোন নেই। অ্যান্ড্রয়েড ফোন থাকলেই বা সেই চালকরা কেন মালিকপক্ষের হয়ে নিজেরা ডিজিটাল লেনদেন করবেন? আগামী ২৪ তারিখ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ আমাদের থেকে সময় চেয়েছেন। আমরা সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি কিন্তু তার পর যা হবে, তার জন্য দায়ী থাকবেন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষই।’’ এই ইস্যুতে এখন কী সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সে দিকেই নজর পরিবহণ মহলের।

National Highway Authority of India Toll Tax
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy