রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর জামিন মামলায় এ বার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর বক্তব্য জানতে চাইল হাই কোর্ট। সোমবার হাই কোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে মামলাটি ওঠে শুনানির জন্য। সেখানে বিচারপতি নির্দেশ দেন, আগামী ২৯ জুনের মধ্যে ইডি-কে লিখিত ভাবে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে। আগামী ১ জুলাই ফের এই মামলা শুনবে আদালত।
পুরসভার নিয়োগ মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন সুজিত। বর্তমানে তিনি রয়েছেন প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে। বিশেষ ইডি আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যে প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা পেয়েছেন। পুরনিয়োগ মামলায় জামিনের আর্জিতে তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এর আগে ইডির গ্রেফতারিকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে সুরাহা মেলেনি। এ বার তাঁর জামিনের আর্জির প্রেক্ষিতে ইডির বক্তব্য জানতে চাইল হাই কোর্ট।
গত ১১ মে সুজিতকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরিপ্রাপকদের নাম সুপারিশ করার অভিযোগ রয়েছে সুজিতের বিরুদ্ধে। ইডি সূত্রে খবর, সেই তালিকায় কমবেশি ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম রয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বলে মনে করছে ইডি। তাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্যও।
আরও পড়ুন:
এর আগে গ্রেফতারি খারিজের আর্জিতে দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন সুজিত। তবে সেই দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে আদালত বলেছিল,“গ্রেফতার খারিজ নিয়ে এত তাড়াহুড়ো কেন? ইতিমধ্যে যদি গ্রেফতার হয়ে থাকেন, তবে মামলায় আর কী পড়ে থাকে?”
গ্রেফতারির আগে সুজিতকে একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। ভোটের আগে তাঁকে কয়েক বার তলব করা হয়েছিল। সেই সময় সুজিত জানিয়েছিলেন, তিনি প্রচারের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। প্রচারপর্ব মেটার পর গত ১ মে তিনি সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছিলেন। সে বার তাঁকে কিছু ক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তার পর ফের সুজিত ইডি দফতরে যান ১১ মে। সঙ্গে তাঁর আইনজীবীও ছিলেন। ছিলেন সুজিতের পুত্র সমুদ্র বসু। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সুজিতকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা।