সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কয়েক কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠল নদিয়ার বাসিন্দা এক সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিব। নাম তীর্থ সরকার। প্রায় ১০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিভিন্ন সরকারি পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েক বছরে তীর্থ কয়েক কোটি টাকা নিয়েছেন বেকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে। এমনই একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল থানায়। তার ভিত্তিতে রবিবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার রানাঘাট মহকুমা আদালতে হাজির করানো হচ্ছে তাঁকে।
নদিয়ার হাঁসখালিতে ওই সরকারি কর্মীর বাড়ি। আগে শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিব পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। বদলি হয়ে পরে চাপড়ার বৃত্তিহুদা গ্রাম পঞ্চায়েতে যোগদান করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুই কর্মক্ষেত্রে কয়েক জন বেকার যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরির টোপ দিয়েছিলেন তিনি। পঞ্চায়েতের একাধিক দফতরে স্থায়ী পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু কয়েক লক্ষ টাকা নেন। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে পঞ্চায়েত কর্মীদের মতবিরোধ শুরু হয়।
চাকরিপ্রার্থীরা প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ওই পঞ্চায়েত কর্মীদের কাছ থেকে টাকা ফেরতের দাবি জানান। বদলে মেলে তারিখ। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ১৭০ জনের কাছ থেকে ৯ থেকে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তীর্থ।
গ্রেফতারির পরে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও প্রতারণার কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত। ওই সরকারি কর্মীর দাবি, তিনিও প্রতারিত! পরিচিত একজনের প্রতিশ্রুতিমতো তিনি শুধুমাত্র যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন তাঁকে। এখন ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অন্য দিকে, রুদ্রদীপ বিশ্বাস নামে ‘প্রতারিত’ এক চাকরিপ্রার্থী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, সুসম্পর্কের সুবাদে নদিয়ার হাঁসখালির বাসিন্দা তথা সরকারি কর্মীকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে মোট ৪২ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চুক্তিমতো নির্দিষ্ট সময়ে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টে ঋণের টাকার পরিবর্তে রুদ্রদীপকে একটি সরকারি সংস্থায় চাকরির টোপ দেন ওই ব্যক্তি এবং পরবর্তী সময়ে ভুয়ো নিয়োগপত্র ধরিয়ে দেন।
আদালত তীর্থকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।