Advertisement
E-Paper

মন্তব্য ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলেও আপাতত স্বস্তি অভিষেককে! ৩১ জুলাই পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নয়, পুলিশকে নির্দেশ হাই কোর্টের

এফআইআর খারিজের আর্জি নাকচ করে বিচারপতি জানিয়েছেন, তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে। তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। ৪৮ ঘণ্টার নোটিসে তাঁকে ডেকে পাঠাতে পারবেন তদন্তকারীরা। আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশযাত্রা নয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ১৩:১৭
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ওই এফআইআর খারিজের আর্জি জানালেও তা নাকচ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিষেকের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দলের শীর্ষ পদে থেকেও তিনি এমন মন্তব্য কেন করবেন, তা জানতে চান বিচারপতি।

হাই কোর্ট জানিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তবে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। তদন্তে তিনি সহযোগিতা না-করলে আদালতে আবেদন জানাতে পারবে পুলিশ। একই সঙ্গে হাই কোর্টের নির্দেশ, অভিষেককে তলব করতে হলে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে পুলিশকে। আদালতের অনুমতি ছাড়া আপাতত দেশ ছাড়তে পারবেন না অভিষেক। এফআইআর খারিজের আর্জি নাকচ করে বিচারপতি জানিয়ে দেন, এই বিষয়ে তদন্ত চলবে। আগামী ২০ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

বৃহস্পতিবার অভিষেকের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণের উদ্দেশে বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, “আপনি বলছেন আপনার মক্কেল সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। তিন বারের সাংসদ। তিনি কেন এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করবেন? নির্বাচনের আগে কেন এমন করা হবে? যে রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার মতো কালো ইতিহাস রয়েছে।”

কল্যাণ তাঁর সওয়ালে বলেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। রাজনৈতিক দলের নেতারা সভা থেকে এমন মন্তব্য করে ফেলেন।” কিন্তু এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি। তিনি বলেন, “অন্য কারও বিষয়ে এখানে আলোচনা হচ্ছে না। আপনি আদালতে এসেছেন, তাই আপনাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে। সর্বভারতীয় দলের সাধারণ সম্পাদক এমন মন্তব্য করবেন কেন? তাঁর কাছ থেকে কি এমন উস্কানিমূলক মন্তব্য আশা করা যায়?” প্রত্যুত্তরে কল্যাণ বলেন, “অপরাধ এবং আচরণ, দু’টি আলাদা বিষয়। ওই মন্তব্যের জন্য অপরাধ হয়েছে কি না দেখতে হবে।”

রাজ্যের উদ্দেশে বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, “কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলতেই পারে। এ ক্ষেত্রে মামলাকারীকে কি হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে?” রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, এই মুহূর্তে ওই মামলায় হেফাজতে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এমনকি পুলিশ গ্রেফতারের মতো কোনও পদক্ষেপ করেনি। অভিষেকের ওই মন্তব্যের জন্য ভোট-পরবর্তী হিংসার মতো ঘটনা ঘটেছে কি না, পুলিশ তার তদন্ত করছে।

অভিষেকের মন্তব্যের সমালোচনা করে বিচারপতি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক হিংসার ইতিহাস অন্য কথা বলছে। তাঁর কাছ থেকে এমন মন্তব্য মানা যায় না। তিনি বিচক্ষণ মন্তব্য করবেন, এটাই তো হওয়া উচিত। গণতান্ত্রিক দেশে যে কোনও দল জিততে বা হারতে পারে। এক জন সাংসদের কি এমন মন্তব্যের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে?”

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। অভিষেকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। একই সঙ্গে অভিষেকের বিরুদ্ধে বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়ে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। তার পরেই গত ১৮ মে বিধাননগর থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজ করতে চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক।

Calcutta High Court TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy