হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র রোড এলাকার হকারদের উচ্ছেদের নোটিসের উপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের নির্দেশ, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত উচ্ছেদের কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। হকারদের আবেদন বিবেচনা করবেন পূর্ব রেলের বিভাগীয় অধিকর্তা (ডিআরএম)। নথি ও তথ্য যাচাই করে আইনানুগ সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। আগামী ২৫ মে-র মধ্যে প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র দেবেন মামলাকারীরা এবং আগামী ২৯ মে হকারদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি করবেন রেল কর্তৃপক্ষ। শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমন্বয় সমিতির প্রতিনিধিরাও।
বিচারপতির আরও নির্দেশ, আগামী ১০ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন রেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে কোর্টকে। প্রসঙ্গত, গত ১৮ মে হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র রোড এলাকায় হকারদের দোকান আগামী ২৩ মে-র মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নোটিস দেন পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। এর বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন ওই এলাকার হকারদের একাংশ। এ দিন তাঁদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমন্বয় সমিতিকে ভাড়া দিয়ে ওই এলাকায় ব্যবসা করছিলেন হকারেরা। আরও অভিযোগ, আইন উপেক্ষা করে হকারদের নথিপত্র যাচাই না করেই উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ।
এ দিন রেলের হয়ে সওয়াল করেন কেন্দ্রের আইনজীবী কুমারজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর যুক্তি, রেল আইন ১৯৮৯-এর ১৪৭(২) ধারা অনুযায়ী রেলের জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের অধিকার রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষের এবং অমৃত ভারত প্রকল্প চালু করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আইনজীবীর আরও দাবি, আইনত রেলের জমি অন্যদের ভাড়া দিতে পারে না হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমন্বয় সমিতি। কারণ, সমিতির সঙ্গে রেলের শুধু সমিতির অফিস খোলার চুক্তি রয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আপাতত হকার উচ্ছেদের উপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন বিচারপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, কোনও নির্দিষ্ট দফতরের নাম বা আধিকারিকের স্বাক্ষর না থাকায় প্রাথমিক ভাবে রেলের উক্ত নোটিসের বৈধতা নিয়ে অনিশ্চিত আদালত।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)