সামনে দাঁড়িয়ে সিবিআইয়ের ডিএসপি তথাগত বর্ধন। তাঁর সামনে তর্জনী তুলে শেক্সপিয়র সরণি থানার ওসি অমিত দে সরকার বলছেন, ‘‘অনেক ক্ষণ ধরে চলে যেতে বলছি। নৌটঙ্কি হচ্ছে?’’ পাল্টা হুঙ্কার ডিএসপির। বললেন, ‘‘আপনি কে? কোন র্যাঙ্কের অফিসার? আমি ডিএসপি।’’
তাতে অবশ্য দমে যাননি ওসি। উল্টে সহকর্মীদের উদ্দেশে অমিতকে বলতে শোনা যায়, ‘‘এই, গাড়িতে তোল একে। সব ক’টাকে তোল।’’ তার পরেই শুরু সিবিআইয়ের উপরে ‘পুলিশি দাপট’।
রবিবার সন্ধ্যায় লাউডন স্ট্রিটে যে নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী ছিল দেশে, সেখানে প্রকাশ্যে ‘সক্রিয়’ দেখা গিয়েছে অমিতবাবু এবং ডিসি (সাউথ) মিরাজ খালিদকে। দাপট দেখা গিয়েছে কলকাতার আরও কয়েকটি থানার ওসি এবং অতিরিক্ত ওসি-কে।
পুলিশের একাংশ বলছে, ১৯৯১ ব্যাচের অফিসার অমিত একাধিক থানায় কাজ করেছেন। শেক্সপিয়র সরণি থানার অতিরিক্ত ওসি পদেও ছিলেন। এর আগে কোনও বিতর্কেও জড়াতে দেখা যায়নি তাঁকে। সেই তিনিই এমন ‘রণং দেহি’ মেজাজ কেন দেখালেন, তা নিয়ে বিভ্রান্ত সতীর্থদের অনেকেই। পুলিশের একটি সূত্রের অবশ্য দাবি, শাসক দলের সঙ্গে ‘সুসম্পর্ক’ রয়েছে তাঁর। পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার-সহ শীর্ষ কর্তাদেরও ‘সুনজরে’ রয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, ২০০৭ ব্যাচের আইপিএস মিরাজ খালিদকে নিয়েও। উত্তরপ্রদেশের এই ভূমিপুত্রের ঝুলিতে আইনের ডিগ্রি রয়েছে। সেই তিনিই বা কী ভাবে এমন কাজ করলেন?
আরও পড়ুন: সিপি-র বাসভবনে কেন রবিবারেই সিবিআই, অনুমতি দেখাতে অসুবিধা কী
সোমবার এ বিষয়ে মিরাজ খালিদ এবং অমিত দে সরকারকে ফোন করলে কেউই ফোন ধরেননি। রাত পর্যন্ত এসএমএস-র উত্তরও মেলেনি।
রবিবার বিকেলেই কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (১) জাভেদ শামিম অভিযোগ করেছিলেন, সংবাদমাধ্যম খবরের সত্যতা যাচাই না-করেই কলকাতা পুলিশ এবং কমিশনারকে অপদস্থ করার চেষ্টা করছে। তার পর পুলিশ কমিশনারের সরকারি বাসভবনের সামনে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাকে কলকাতা পুলিশের একাংশই ভাল চোখে দেখছে না। ঘনিষ্ঠ মহলে সে কথা বলেওছেন অনেকে। রবিবার রাতেই লাউডন স্ট্রিটে দাঁড়ানো এক পুলিশকর্মী বলছিলেন, ‘‘উপরমহলের নির্দেশে আর কত কী যে করতে হবে!’’