মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার আগে উত্তেজনা মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে। মঙ্গলবার সুতিতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা রয়েছে। তার ঠিক আগে সোমবার সকাল থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিক্ষোভ নেমেছেন স্থানীয়েরা। তাঁদের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদে সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনার আবহে নিহত হরগোবিন্দ এবং চন্দন দাসের বাড়িতে রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছে পুলিশ। এর পর সকাল থেকেই এলাকায় স্থায়ী বিএসএফ ক্যাম্পের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়েরা।
মমতার সফরের আগেই মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় চলে গিয়েছেন নিহত হরগোবিন্দ এবং চন্দনের স্ত্রীরা। কলকাতার সল্টলেকের ওই বাড়িতে অভিযানও চালিয়েছে পুলিশ। এর পরেই পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে স্বামীহারা দুই মহিলা কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার চেয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকেও চিঠি লিখেছেন তাঁরা। কলকাতায় নিহত বাবা-ছেলের পরিবারকে নিয়ে ‘টানাটানি’কে ঘিরে বিতর্কের আবহে মুর্শিদাবাদেও পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ উঠল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রবিবার গভীর রাতে তালা ভেঙে নিহত হরগোবিন্দ এবং চন্দনের বাড়িতে ঢুকেছিল পুলিশ। এলাকায় দীর্ঘ ক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রেখে ওই অভিযান চলে। স্থানীয় বাসিন্দা রবি দাস বলেন, ‘‘আমরা চেয়েছিলাম, মুখ্যমন্ত্রী এসে সমস্ত হিংসার চিহ্ন দেখুন। কিন্তু ওই রাতেই সমস্ত প্রমাণ মুছে ফেলল পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সত্য তুলে ধরতে দিতে চাইছে না পুলিশ প্রশাসন। অবিলম্বে এখান থেকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়া হোক। আমরা স্থায়ী বিএসএফ ক্যাম্প চাই। তার ব্যবস্থা করুক সরকার।’’
যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার অমিতকুমার সাউ বলেন, ‘‘স্থানীয় ভাবে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পুলিশ পৌঁছেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছে। সব কিছু স্বাভাবিক আছে।’’