E-Paper

তথ্যগত গরমিল বাড়ছে, বাড়ছে শুনানিতে ডাকও

প্রথমে জানা গিয়েছিল, এমন গরমিল থাকা ভোটারদের সংখ‍্যা প্রায় ১.৩৬ কোটি। পরে নামের বানান-সহ ছোটখাটো কিছু ত্রুটি সংশোধনের পরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৯৬ লক্ষে। তার ভিত্তিতে শুরু হয় সেই ভোটারদের নোটিস জারি করার কাজ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:২৫

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

এসআইআরে তথ্যগত গরমিলের (লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সি) সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তারই সঙ্গে বাড়ছে শুনানিতে ডাকার সংখ্যাও। সর্বমোট সংখ্যা নিশ্চিত ভাবে জানা না গেলেও, জেলা প্রশাসনগুলির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বিধানসভায় গড়ে কয়েক হাজার করে এমন সংখ্যা বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, যে কোনও গরমিলেই কি হাজিরা দিতে হবে? এ প্রশ্নও তৈরি হচ্ছে, এমন ভোটারদের প্রাথমিক তালিকা তৈরির পরে ফের কেন এই সংখ্যা বাড়ছে ? এ বিষয়ে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর (ডিইও) নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের অবস্থানের দিকে আঙুল তুলছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্য পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বাতিল নিয়ে।

প্রথমে জানা গিয়েছিল, এমন গরমিল থাকা ভোটারদের সংখ‍্যা প্রায় ১.৩৬ কোটি। পরে নামের বানান-সহ ছোটখাটো কিছু ত্রুটি সংশোধনের পরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৯৬ লক্ষে। তার ভিত্তিতে শুরু হয় সেই ভোটারদের নোটিস জারি করার কাজ। সে কাজ চলাকালীনই বিধানসভা এলাকাভিত্তিক গড়ে কয়েক হাজার করে এমন ভোটার বাড়তে শুরু করেছে। কমিশন সূত্রের বক্তব্য, ‘সেলফ ম‍্যাপিং’ বা ২০০২ সালে এসআইআর তালিকায় নিজের নামের সঙ্গে মিল করানোর নিরিখে গরমিল ধরা পড়ছে নতুন করে। তাই কিছু সংখ্যক বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, জেলা, ডিভিশন এবং স্পেশাল পর্যবেক্ষক ছাড়াও নবনিযুক্ত মাইক্রো অবজ়ার্ভারেরা এনুমারেশন ফর্ম-সহ সব তথ্য খতিয়ে দেখছেন। তাতে যা ধরা পড়ছে, তারই প্রতিফলন ঘটছে বলে কমিশন সূত্রের দাবি।

কমিশন নিজেই জানিয়েছিল, ছোটখাটো ভুলভ্রান্তিগুলি মিটিয়ে ফেলা হবে স্থানীয় স্তরেই। তার জন্য শুনানিতে ডেকে পাঠানো হবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সামান্য ভুলত্রুটির ক্ষেত্রেও ডেকে পাঠানো হচ্ছে ভোটারদের। বিএলও স্তরে তা মেটানো হচ্ছে না। এমনকি, কোনও ভোটারের নামের বানান বিকৃত হওয়ার কারণেও ডেকে পাঠানো হচ্ছে ভোটারদের। আবার কোনও কোনও জেলায় শুনানি-আধিকারিকদের একাংশ বলে দিচ্ছেন, দ্বিতীয় বারেও ডাকা হতে পারে শুনানিতে। ফলে কমিশন আগের অবস্থানে কেন অনড় থাকতে পারছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যাঁরা ‘আন-ম্যাপড’ ভোটার (২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় নিজস্ব বা নিকটাত্মীয়ের নামের সঙ্গে মিল না থাকা) হিসেবে শুনানিতে গিয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এতটা সমস্যা হয়নি।

তথ্যগত গরমিলের শুনানি শুরু হতেই এই সমস্যার কথা জেনেছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। তারা সবিস্তার তথ্য পাঠাচ্ছে দিল্লির নির্বাচন সদনে। তবে কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, ডিইও না পাওয়াতেই বহু ক্ষেত্রে ভোটার-তথ্য নথিবদ্ধ করার সময়ে ভুলভ্রান্তি হয়েছিল। তাদের যুক্তি, রাজ্যের কাছে ডিইও চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। তাতে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ দিকে, এসআইআরের বৈধ নথি হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বাতিল হওয়ায় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর প্রতিক্রিয়া, “যেখানে অ্যাডমিট কার্ডে বয়স লেখা থাকে, সেখানে অ্যাডমিট কার্ড কেন গ্রহণযোগ্য হবে না!”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Special Intensive Revision West Bengal SIR SIR hearing

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy