সোমবার রাত থেকে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগ তুলতে শুরু করেছিলেন তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের দফতর সেই অভিযোগের জবাব দিল। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজের দফতরের করা এক্স পোস্টে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র এবং আকাশবাণীর (অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো) পাশাপাশি রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকেও ট্যাগ করা হয়েছে। চন্দ্রিমাই সোমবার রাতে প্রথম তাঁর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন।
এক্স পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘‘সংক্ষেপে বলতে গেলে, শেষ পর্যন্ত বিশেষ আদালতের বিচারক চার্জশিটের অভিযোগ থেকে সম্মানজনক ভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন। মিসেস আগরওয়াল তাঁর বিয়ের আগে থেকেই সম্পত্তির মালিক এবং ১৯৮৩ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে তার আয়কর রিটার্ন দাখিল করে আসছেন। তাঁর অর্জিত এবং ন্যস্ত সমস্ত সম্পদই গত ৪৩ বছর ধরে সম্পূর্ণ রূপে ঘোষিত, আয়কর বিভাগ কর্তৃক যথাযথ ভাবে তার মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাঁর আর্থিক বিষয়গুলি সর্বদা স্বচ্ছ এবং আইনসিদ্ধ।’’
এর পরেই একটি প্রবাদের উল্লেখ করে অভিযোগকারীদের খোঁচা দিয়ে মন্তব্য, “দীর্ঘ অগ্নিপরীক্ষার পরে ‘কুকুরকে বদনাম করে ফাঁসিতে ঝোলানো’র প্রচেষ্টা সামনে এসেছে। সত্য এবং আইনের শাসন নিঃসন্দেহে জয়ী হবে।” প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের একটি খবরের স্ক্রিনশট পোস্ট করে সোমবার রাতে মনোজের উদ্দেশে চন্দ্রিমা লিখেছিলেন, ‘‘মনোজ আগরওয়াল আধিকারিকদের লক্ষ্মণরেখা মনে করিয়েছেন এবং সার্ভিস রুল বুক সম্পর্কে নানা কথা বলেছেন। কিন্তু কোথায় তাঁর নৈতিকতা থাকে, যখন তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে সিবিআই চার্জশিটে অবৈধ সম্পত্তি ও ৩০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উল্লেখ রয়ে যায়?’’
চন্দ্রিমার বেঁধে দেওয়া সুরেই মঙ্গলবার একের পর এক পোস্ট করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা এবং ঋজু দত্ত। তাঁদের বক্তব্য, অন্যকে শিক্ষা দেওয়ার আগে মনোজ যেন নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। নইলে তিনি যেন সরে যান। উল্লেখ্য, এসআইআর পর্বের শুরুতে সিইও মনোজের নাম না-করে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেছিলেন, ‘‘এখানে যিনি আছেন, তাঁর নামে কী কী আছে, সেগুলি সময় হলে প্রকাশ্যে আনব। আমরা কিন্তু সব জানি।’’
আরও পড়ুন:
এসআইআর পর্বের পরে গত শনিবার চূড়ান্ত তালিকার আংশিক প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। যেখানে ৬০ লক্ষের বেশি নাম রাখা হয়েছে বিবেচনাধীন হিসাবে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে তৃণমূল। তালিকা প্রকাশের সাংবাদিক বৈঠকে মনোজ বলেছিলেন, ‘‘এত বড় প্রক্রিয়ায় কিছু ছোটখাটো ভুল হতেই পারে। যেখানে ভুল হয়েছে, সেখানেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’’ রবিবার অভিষেক পাল্টা বলেছিলেন, ‘‘১৬০ জনের বেশি মানুষ মারা গেলেন, আর মনোজ বলছেন ছোটখাটো ব্যাপার। জ্যান্ত মানুষকে মৃত দেখিয়ে দেওয়া হল, বলছেন ছোটখাটো ব্যাপার!’’ এই আকচাআকচির মধ্যেই সরাসরি আর্থিক অনিয়মের প্রশ্নে মনোজকে আক্রমণ শুরু করেছিল তৃণমূল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘প্রত্যাঘাত’ করল তাঁর দফতর।