Advertisement
E-Paper

পুলিশ মার খাওয়ার ঘটনা যেন আমার কানে না-আসে! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু প্রথম জেলা সফর থেকে বার্তা দিলেন বাহিনীর সর্ব স্তরে

অতীতে রাজ্যে বিভিন্ন ঘটনায় অশান্তি থামাতে গিয়ে পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গোলমাল থামাতে গিয়ে পুলিশকর্মীরা রক্তাক্ত হয়েছেন, এমন নজিরও রয়েছে। নতুন সরকার যে এমন কোনও ঘটনা বরদাস্ত করবে না, তা শনিবার স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ২১:০১
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

অপরাধীদের কাছে পুলিশ মার খাবে, তা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম জেলা সফরে গিয়ে তা স্পষ্ট করে দিলেন পুলিশের সর্ব স্তরে। জানিয়ে দিলেন, “পুলিশ মার খেয়েছে, এই ঘটনা যেন কোনও ভাবে আমার কানে না-আসে।”

শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে যান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এটিই তাঁর প্রথম জেলা সফর। ডায়মন্ড হারবার থেকে রাজ্যের সর্ব স্তরের পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং মুখ্যসচিব মনোজকুমার অগ্রবালও। ওই বৈঠকেই পুলিশ নিয়ে নিজের বক্তব্য বাহিনীর উঁচুতলা থেকে নিচুতলা পর্যন্ত পৌঁছে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

অতীতে রাজ্যে বিভিন্ন ঘটনায় অশান্তি থামাতে গিয়ে পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সমাজবিরোধীদের হাতে আক্রান্ত হয়ে পুলিশকর্মীরা রক্তাক্ত হয়েছেন, এমন নজিরও রয়েছে। নতুন সরকার যে এমন কোনও ঘটনা বরদাস্ত করবে না, তা শনিবার স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরেই ধর্মীয় স্থানে লাউড স্পিকার ব্যবহারের উপর রাশ টেনেছে বিজেপি সরকার। এই নির্দেশ কার্যকরী করতে ধর্মীয় নেতা বা স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে ধর্মীয় কারণে অশান্তি হলে, সে ক্ষেত্রে যার যতটা দোষ অশান্তিতে, তার ভিত্তিতে পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। এই প্রসঙ্গেই তাঁর কথাতে উঠে আসে সাম্প্রতিক আমডাঙা এবং আসানসোলের ঘটনা। আসানসোলের মতো ঘটনা ঘটলে, পুলিশ যদি সক্রিয় না-হয়, তা হলে কড়া পদক্ষেপের কথাও বলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ রকম ঘটনা ঘটলে, দরকার হলে আমি নিজে ফাঁড়িতে বসে থেকে কাজ কী ভাবে করাতে হয় দেখব।”

এই ধরনের ঘটনায় সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ যে অভিযুক্তদের কাছ থেকেই আদায় করতে হবে, সেই নির্দেশও পুলিশের সর্ব স্তরে স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আপনারা যে গাড়ি চড়েন, সেই গাড়ির নথিপত্র ঠিক আছে কি না, সেটাও দেখে নেবেন।” আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বা অপরাধ দমনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে রাজ্য পুলিশের সব স্তরকে সুসম্পর্ক রাখার উপরেও জোর দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, প্রত্যেক থানায় ‘ডিজিটাইজ়েশন’-এর উপর গুরুত্ব দিতে হবে। ‘পেপারলেস’ বা ‘ই-অফিস’-এ গুরুত্ব দেওয়ার সঙ্গে বাজেয়াপ্ত অস্ত্র এবং মাদকের রেকর্ড ডিজিটাইজ় করার কথাও বলেন তিনি। দেশ জুড়ে অপরাধীদের তথ্যভান্ডার ‘সিসিটিএনএস’-এর ব্যবহারে জোর দেওয়ারও নির্দেশ দেন রাজ্যের পুলিশপ্রধান সিদ্ধনাথকে। গবাদি পশু পাচারের ব্যবসার বিরুদ্ধেও ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করার জন্য বলেন তিনি।

নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপি বলে এসেছে, তারা ক্ষমতায় এলে রাজ্যে নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। শনিবার পুলিশের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে সরকারের সেই লক্ষ্যও প্রতিফলিত হয়েছে। যে থানাগুলিতে পর্যাপ্ত লোকবল রয়েছে, সেখানে মহিলাদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু করার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, প্রতিটি মহকুমায় মহিলা থানা চালু করার কথাও উঠে এসেছে বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় যাঁরা এত দিন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেননি, সেই অভিযোগগুলিও গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি এ-ও জানিয়েছেন, এই সংক্রান্ত যে ফাইলগুলি এতদিন চাপা পড়েছিল, সেগুলিকেও এ বার গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

Suvendu Adhikari West Bengal Police
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy