মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তৈরি পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ডায়মন্ড হারবারে পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর ঘোষণা, সোমবার এ নিয়ে সরকারি ভাবে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি, তোলাবাজির অভিযোগ পেলে কড়া পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার পুলিশকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শুভেন্দু। ফলতায় নির্বাচনী প্রচারসভায় যাওয়ার আগে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ঘোষণা করেন, পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড আর থাকবে না। ২০১১ সালে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরের বছর পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড তৈরি করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেন্ট্রাল কমিটিতে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি। পুলিশ এবং পুলিশ পরিবারের স্বাস্থ্য পরিষেবা, অবসরকালীন সুবিধা দেওয়া ছিল বোর্ড তৈরির উদ্দেশ্য। কিন্তু বিরোধীরা অভিযোগ করত, অচিরেই ওই বোর্ড শাসকদলের শাখা সংগঠন হয়ে যায়। এই একই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুও। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল। পরে সেটি একটি রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠন হয়ে যায়। ওই বোর্ড তৈরির ফলে পুলিশের মঙ্গল কতটা হয়েছে জানি না, তবে শান্তনু সিংহ বিশ্বাস, বিজিতাশ্বর রাউতদের মতো অফিসারদের সুবিধা হয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সমন্বায়ক ছিলেন শান্তনু এবং বিজিতাশ্বর। পুলিশকর্তা শান্তনু দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন বৃহস্পতিবার। শনিবার শুভেন্দুর ঘোষণা, ‘‘আজ পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দিলাম। সোমবার সরকারি ভাবে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।’’
এ ছাড়া পুলিশ-প্রশাসন নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘বিএনএস অনুযায়ীই এ বার পদক্ষেপ করবে পুলিশ। রাজনৈতিক হিংসায় যাঁরা প্রভাবিত হয়েছেন, তাঁরা তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেন। এফআইআর করতে পারেন। রাজনৈতিক হিংসায় প্রভাবিত, পুলিশের দ্বারা অন্যায় ভাবে হেনস্থা হওয়া ব্যক্তি অভিযোগ করতে পারেন। এ বার পুলিশ অভিযোগ নেবে।’’
শুভেন্দু জানিয়েছেন, যে মহিলারা অত্যাচারিত হয়েছেন, যাঁরা অভিযোগ করতে গিয়ে থানায় তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন, তাঁরাও অভিযোগ করতে পারেন পুলিশের কাছে। তা ছাড়া সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে গিয়ে যাঁদের কাটমানি দিতে হয়েছে, তাঁরাও অভিযোগ করতে পারেন থানায়। অভিযোগের সত্যাসত্য খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করবে। আবার অভিযোগ যদি মিথ্যা হয় আইন অনুযায়ী অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী এ-ও জানিয়েছেন, টোটো, অটো, হকারদের কাছ থেকে টাকা তোলা চলবে না। কেউ টাকা চাইলে সোজা থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুলিশমন্ত্রী। রসিদ ছাড়া কাউকে কোনও অর্থ দিতে বারণ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এ বার আর শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন হবে।’’