বিজেপির ‘এক নিশান’, ‘এক বিধান’, ‘এক সংবিধান’-এর পথে অগ্রসর হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) সংক্রান্ত বিল পেশ। বিধানসভা সূত্রে খবর, আগামী সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিলটি বিধানসভায় পেশ করবেন। এর ফলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার পথে দেশের চতুর্থ রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার মোট পাঁচটি বিল পেশ করা হবে। তার মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভাবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ২০২৬’ বিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ডাকা কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠকে বিলটি পেশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরেও কার্যবিবরণী কমিটির একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে প্রশাসনিক ও আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা হলেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। বৈঠকে অন্যান্য বিল পেশের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিকেলের পরে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় পৌঁছোন। তাঁর উপস্থিতিতেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিলটি চলতি অধিবেশনেই আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে সন্ধ্যার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সোমবারের কর্মসূচির দ্বিতীয় ভাগে এই বিলটি বিধানসভায় পেশ করা হবে। বিধানসভার টেবিল অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য এক ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আলোচনায় অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ শাসক ও বিরোধী শিবিরের একাধিক সদস্য। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
বর্তমানে দেশের মধ্যে অসম, উত্তরাখণ্ড এবং গোয়ায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই বিল বিধানসভায় পাশ হয়ে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এ রাজ্যই হবে দেশের চতুর্থ রাজ্য, যেখানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্য সরকারের এটি অন্যতম বড় নীতিগত পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আইন, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও দত্তক গ্রহণের মতো বিষয়গুলিতে একক আইনি কাঠামো গঠনের লক্ষ্যে এই বিল কতটা কার্যকর হয়, সে দিকেও নজর থাকবে সকলের। সোমবার বিধানসভায় বিলটি পেশ হওয়ার পরই এ নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন বিতর্ক এবং আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।