উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট-২ ব্লকের বিডিও তথা এইআরও (সহকারী নির্বাচনী আধিকারিক) সৌমিত্রপ্রতিম প্রধানকে ক্ষমা করে দেওয়া হোক, আবেদন জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। চিঠিতে জানানো হল, সৌমিত্র ইচ্ছাকৃত ভাবে ওই কাজ করেননি। কমিশন সূত্রে খবর, আইন মোতাবেক এইআরও-র অতিরিক্ত এইআরও নিয়োগ করার ক্ষমতা নেই। তিনি কী ভাবে ১১ জন অতিরিক্ত এইআরও নিয়োগ করলেন? পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সৌমিত্রকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে কর্মী নিয়োগ করে রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর শুনানি করার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে ওই আধিকারিককে সাসপেন্ড করতে বলে কমিশন। তারা জানায়, সৌমিত্রকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করতে হবে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সব কাজ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে শুরু করতে হবে বিভাগীয় তদন্ত। মুখ্যসচিবকে নির্দেশগুলি পালনের জন্য সময়ও বেঁধে দেয় কমিশন। চিঠিতে কমিশনের সচিব সুজিতকুমার মিশ্র জানান, ওই সব নির্দেশ যাতে কঠোর ভাবে পালন করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিঠি পাঠিয়ে তা জানাতে হবে মুখ্যসচিবকে। এমনকি, ওই আধিকারিকের নির্দেশে মেনে কর্মীরা যে সব শুনানি করেছেন, তা-ও বাতিল করে কমিশন। একই সঙ্গে কমিশনের হুঁশিয়ারি, ভোটার তালিকার কাজে ভুল বা বেআইনি কিছু হলে ৩ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে।
বর্তমানে বসিরহাট-২ ব্লকের বিডিও সৌমিত্র কমিশনের অধীনে এইআরও (সহকারী নির্বাচনী আধিকারিক) হিসাবে কাজ করছেন। অভিযোগ, ওই আধিকারিক ক্ষমতার বাইরে গিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে ১১ জন সরকারি কর্মচারীকে অতিরিক্ত এইআরও হিসাবে নিয়োগ করেন, যা আইন মেনে করা হয়নি এবং নিয়মবিরুদ্ধ। তবুও ওই ১১ জন কর্মীকে ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানি করতে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়ালকে চিঠি পাঠিয়ে কমিশন জানায়, সৌমিত্র নিযুক্ত ১১ জন যে সব শুনানি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সবই অবৈধ। এগুলি সব বাতিল করা হল। ওই সব শুনানি পুনরায় নতুন করে, সঠিক নিয়ম মেনে করতে হবে।
এ বার এই নিয়ে কমিশনকে চিঠি দিলেন মুখ্যসচিব। কমিশন সূত্রে খবর, বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।