Advertisement
E-Paper

সই-কাণ্ডে তৃণমূলের তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করতে চায় সিআইডি! আবেদন মঞ্জুর ব্যাঙ্কশাল কোর্টে

সই-কাণ্ডে পাঁচ সদস্যের সিট গঠন করেছে সিআইডি। নেতৃত্বে রয়েছেন সিআইডি-র ডিআইজি পদমর্যাদার এক আধিকারিক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ২০:৩৩
সই-কাণ্ডে সিআইডি আদালতের দ্বারস্থ।

সই-কাণ্ডে সিআইডি আদালতের দ্বারস্থ। ছবি: সংগৃহীত।

তৃণমূল বিধায়কদের সই-কাণ্ডে এ বার আদালতের দ্বারস্থ হল সিআইডি। তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, শুভাশিস দাস এবং অরূপ রায়ের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করতে ব্যাঙ্কশাল আদালতে আবেদন জানায় সিআইডি। তাদের সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।

সই-কাণ্ডে পাঁচ সদস্যের সিট গঠন করেছে সিআইডি। নেতৃত্বে রয়েছেন সিআইডি-র ডিআইজি পদমর্যাদার এক আধিকারিক। তৃণমূল বিধায়কদের সইয়ে ‘অসঙ্গতি’ নিয়ে রাজ্য বিধানসভার তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই কলকাতা পুলিশকে তদন্তে সাহায্য করছে সিআইডি।

কী এই সই-কাণ্ড?

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, এ নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের জটিলতায় পড়তে হয়েছে প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলকে। ৪ মে ভোটের ফলঘোষণার পরে ৬ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের বৈঠকে ডেকেছিলেন। সে দিনই দলের প্রস্তাবে বিধায়কেরা হাত তুলে সায় দিয়ে জানান, পরিষদীয় দলের নেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, তা ঠিক করুন দলনেত্রী মমতা। তার পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার কথা জানানো হয় তৃণমূলের তরফে। সেই মর্মে দলের তরফে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয় বিধানসভায়। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি।

তার কারণ, পরিষদীয়দলের নেতা বা অন্যান্য পদাধিকারীর নির্বাচন পরিষদীয়দলের বৈঠকেই করতে হয়। তৃণমূলের ক্ষেত্রে তা হয়নি। ৬ মে বৈঠক থেকে বেরিয়ে একাধিক বিধায়ক সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, পরিষদীয়দলের নেতা বা অন্যান্য পদাধিকারী কে হবেন, তা ঠিক করার ভার দেওয়া হয়েছে মমতাকে। বিধানসভা অভিষেকের চিঠি প্রত্যাখ্যান করলে ১৯ মে কালীঘাটে আবার যে বৈঠক হয়, সেখানে পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করানো হয় বিধায়কদের। একাধিক বিধায়ক জানিয়েছিলেন, সেই সই তাঁদের করানো হয়েছিল ৬ মে তারিখের কার্যবিবরণীতে। এখানেই মূল জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে খবর।

সই-কাণ্ড নিয়ে তদন্তে নেমে সিআইডি চার জনের বাড়িতে গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চৌরঙ্গী বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার কুণাল ঘোষ, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বাহারুল।

কিন্তু বাহারুলের সই নিয়ে ‘বিতর্ক’ তৈরি হয়েছে। ১৯ তারিখের বৈঠকে সই করানো হলেও বিধানসভায় জমা পড়া চিঠিটিতে তারিখ রয়েছে ৬ মে। ওই দিন মমতার বাড়ির বৈঠকে বাহারুল হাজির ছিলেন না। বাহারুল বলেন, ‘‘তদন্ত যখন চলছে, তখন এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বেশি কিছু বলব না। শুধু এটুকু বলি, তদন্তকারীরা আমার কাছে জানতে চান ৬ মে আমি কোথায় ছিলাম। আমি তাঁদের জানাই, ওই দিন আমি বাড়িতেই (ভাঙড়ে) ছিলাম। ওই দিনের একটি বৈঠকে সই আমায় দেখানো হয়। আমি তাঁদের বলি, ওই দিন আমি কোনও বৈঠকে যোগ দিইনি। ভোট-পরবর্তী হিংসার কারণে বাড়িতেই ছিলাম।’’ বিষয়টি দলের গোচরেও এনেছেন বলে দাবি করেন বাহারুল।

CID Bankshal court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy