×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২১ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

বিজেপির ‘বড় সর্দার’ সিপিএম, তির মমতার

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা০২ ডিসেম্বর ২০২০ ০৪:৫২
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।

এত দিন সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপিকে এক বন্ধনীতে এনে ‘জগাই-মাধাই-বিদাই’ বলে কটাক্ষ করতেন তিনি। এ বার আরও এক ধাপ এগিয়ে সিপিএমকে সরাসরি ‘বিজেপির বড় সর্দার’ বলে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মন্তব্য, প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এখনকার সিপিএমের মতো ‘নির্লজ্জ’ ছিলেন না! সিপিএম অবশ্য পাল্টা বলেছে, আমপান-এর ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ ঘিরে দুর্নীতি ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে মুখ্যমন্ত্রী তালজ্ঞান হারিয়েছেন!

ঘূর্ণিঝড় আমপান-এ ক্ষতিপূরণ বণ্টনে দুর্নীতি ও বেনিয়মের অভিযোগ তুলে দায়ের করা মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট মঙ্গলবার সিএজি-র নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে। ওই মামলার নেপথ্যে সিপিএম-সহ একাধিক বামপন্থী সংগঠন ও ব্যক্তির ভূমিকা ছিল। এর পরে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী সিপিএমকে নিশানা করে বলেন, ‘‘আমপান-এর ২৫ হাজার কোটি টাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন? তা-ও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিপিএমের লজ্জা থাকা উচিত! বিজেপির সব চেয়ে বড় সর্দার হচ্ছে সিপিএম। বামপন্থী বন্ধুদের সম্মান জানিয়ে বলছি, এই সিপিএমকে আপনারা চেনেন না। এদের মতো এত নির্লজ্জ সিপিএম বুদ্ধবাবু, জ্যোতিবাবুও ছিলেন না!

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘‘লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পিএম কেয়ারে কোথায় যাচ্ছে? কটা অডিট হচ্ছে বন্ধু? কেন অডিট হবে না? আইন কেন দু’রকম হবে?’’ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি,  ‘‘আমি মানুষ হিসাবে বলছি। আমার বেলায় আমি খারাপ। কারণ এরা গরিব, এক-দু’হাজার টাকা নিয়েছে, সেটাও ফিরিয়ে দিয়েছে। সরকারের কথা শুনলে না! কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দিয়ে করাচ্ছো?’’

Advertisement

আরও পড়ুন: অভিষেকের ফোনে মমতা-শুভেন্দু কথা, ২ ঘণ্টা বৈঠকে বরফ কি গলছে?

আদালতের নির্দেশ এবং মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণের প্রেক্ষিতে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘‘ওঁর মনে রাখা উচিত, পিএম কেয়ারের অস্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ আমরা ধারাবাহিক ভাবে তুলেছি। অডিটের দাবি প্রথম সিপিএমই করেছে। এখানে আমপান-এর পরে সর্বদল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলেছিলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা টাঙিয়ে দিতে হবে। কেন তালিকা দেওয়া হল না, ক্ষতিপূরণের টাকা কোথায় গেল, তার জবাব তো রাজ্য সরকারকেই দিতে হবে।’’ সুজনবাবুর আরও মন্তব্য, ‘‘বাংলায় বিজেপিকে নিয়ে এলেন উনি আর আমরা হয়ে গেলাম তাদের সর্দার! বাম আমলে ৩৪ বছর জ্যোতিবাবু, বুদ্ধবাবুদের বাপ-বাপান্ত করে এখন তাঁদের নাম নিতে হচ্ছে! দুর্নীতি ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তালজ্ঞান হারিয়ে, ক্রুদ্ধ হয়ে এ সব বলছেন!’’

আরও পড়ুন: টেলিপ্রম্পটার দেখে বক্তৃতা করি না, মোদীকে খোঁচা মমতার

Advertisement