হামলা এবং পাল্টা হামলা চলছেই। রবিবারেও আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালাল পাক বায়ুসেনা। সংবাদমাধ্যম আল জাজ়িরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কন্দহর-সহ বেশ কয়েকটি সেনাঘাঁটিতে শনিবার মধ্যরাত থেকেই লাগাতার বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। এই হামলায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর প্রকাশ্যে আসেনি। যদিও আফগানিস্তানের অভিযোগ, জনবসতি এলাকা লক্ষ্য করে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে পাকিস্তান। তালিবান সরকারের এক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পাকিস্তান যদি এই হামলা জারি রাখে, তা হলে ইসলামাবাদ, করাচি-সহ সমস্ত বড় শহরে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
পাক সেনা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই আলাদা আলাদা শহরে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে আফগানিস্তান। বেশ কিছু জায়গায় গুলি করে ড্রোন নামানো হয়েছে। হামলার চেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকটি জায়গায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ায় সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন। কোয়েটা প্রদেশ, রাওয়ালপিন্ডি থেকে বেশ কয়েক জনের আহত হওয়া ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। আফগানিস্তান ড্রোন দিয়ে জোরালো হামলা শুরু করতেই সাময়িক ভাবে ইসলামাবাদের আশপাশে আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ড্রোন হামলা প্রসঙ্গে পাকিস্তান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লোকালয়ে এবং সেনাঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে আফগানিস্তান তাদের সীমা লঙ্ঘন করছে। এর ফল ভুগতেই হবে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে পাল্টা দাবি করা হয়, পাকিস্তানের একটি সেনাচৌকি কব্জা করেছে তারা। ১৪ জন পাক সেনা সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন:
শনিবার পাকিস্তানের এই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আফগানিস্তানে পাক বায়ুসেনার বোমাবর্ষণ শুরু হয়ে যায়। পাকিস্তানের দাবি, কন্দহর থেকে ড্রোনের মাধ্যমে পাকিস্তানে হামলা চালানো হচ্ছে। তার পরই শনিবার মধ্যরাত থেকেই কন্দহরকে হামলা শুরু করেছে পাক বায়ুসেনা। আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ দাবি করেছেন, বার বার বসতি এলাকাকে নিশানা বানানো হচ্ছে। কন্দহর বিমানবন্দরের পাশে ছোট একটি বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। যদিও পাকিস্তান সেই অভিযোগকে খণ্ডন করে পাল্টা দাবি করেছে, তারা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলা জারি রাখবে। যে সব জায়গায় ওদের ডেরা রয়েছে, সেই জায়গা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি দুই দেশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তার পর থেকে হামলা, পাল্টা হামলা চলছেই দু’দেশের।