E-Paper

পাঁচ হাতে বহু দায়িত্ব, বার্তা বিধায়কদেরও

এখনই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হচ্ছে না। এই সপ্তাহে বিধায়কদের শপথ হওয়ার কথা। বাকি মন্ত্রীদের শপথের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ০৭:১৬
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল চিত্র।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ব্রিগেড ময়দানে শপথ নেওয়া রাজ্যের পাঁচ মন্ত্রীর দফতর বণ্টন হল সোমবার। আপাতত প্রত্যেকের হাতেই রয়েছে একাধিক দফতর। পরে তা পুনর্বণ্টন হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত অবণ্টিত অর্থ, শিল্প, ভূমি-র মতো দফতরগুলি থাকছে মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই। পাশাপাশি, এ দিন নবান্ন সভাঘরে বিধায়ক দল এবং প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠকে ‘সিন্ডিকেট-রাজ, কাটমানি-সংস্কৃতি’ বন্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে, বিভিন্ন দফতরের বিভাগীয় সচিবদের বিশেষ ভাবে সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গেই শপথ নেওয়া দিলীপ ঘোষের হাতে থাকছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি বিপণন দফতর। অগ্নিমিত্রা পাল নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ, পুর ও নগরোন্নয়ন এবং অশোক কীর্তনিয়া খাদ্য ও সরবরাহ, সমবায় দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন। পাশাপাশি, ক্ষুদিরাম টুডু আদিবাসী উন্নয়ন, অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা এবং নিশীথ প্রামাণিক উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন।

সূত্রের খবর, এখনই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হচ্ছে না। এই সপ্তাহে বিধায়কদের শপথ হওয়ার কথা। বাকি মন্ত্রীদের শপথের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অন্য কিছু বিষয়ে ব্যস্ত। তাঁদের সঙ্গে আরও আলোচনা করে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একটি সূত্রের ইঙ্গিত, ফলতার পুনর্নির্বাচনের পরে যা হওয়ার হবে।

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পরে এ দিন নবান্নের সভাঘরে বিধায়ক দল, জেলাশাসক এবং বিভাগীয় সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সূত্রের খবর, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। সিন্ডিকেট, কাটমানি, গরু-পাচার বন্ধ, অবৈধ ভাবে নদী কাটা, বালি-পাথর তোলা বন্ধের মতো বিভিন্ন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যে পালাবদলের পরে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে থাকা অধিকাংশ পঞ্চায়েত, পুরসভাগুলির কাজকর্ম ঠিক ভাবে হচ্ছে না। এর আগে ভোটের জন্য আদর্শ আচরণ-বিধি থাকার জন্যও কাজকর্ম বন্ধ ছিল। এই পরিস্থিতিতে বৈঠকে বলা হয়েছে, গ্রাম ও নগরোন্নয়নের দিকে তাকিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাজ যাতে অব্যাহত থাকে, সে জন্য মহকুমা স্তরে মহকুমাশাসকদের বিধায়কদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। প্রতি শনি ও রবিবার হবে বৈঠকও। দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, তৃণমূল আমলে জেলাভিত্তিক পরিকল্পনা কমিটির বৈঠক ঠিক ভাবে হত না। সেখানে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের ডাকা হত না বলেও অভিযোগ। নতুন সরকারের নির্দেশ, বিধায়ক, সাংসদের নিয়ে জেলাশাসক পরিকল্পনা কমিটির বৈঠক করবেন।

এরই মধ্যে, আগামী বুধবার, ১৩ মে মুখ্যমন্ত্রী দলের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। সেখানে থাকার কথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যেরও। সে দিনই বিধায়ক হিসাবে বিধানসভায় শপথ নেবেন শুভেন্দু। বিধায়কদের শপথ-পর্ব চলবে দু’দিন ধরে। তবে তার আগে প্রোটেম স্পিকারকে শপথ নিতে হবে। রাজ্যপাল আর এন রবি আজ, মঙ্গলবার কলকাতায় ফিরলে তার পরে প্রোটেম স্পিকারের শপথ হবে। সূত্রের খবর, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে শাসক দলের কাছে যেমন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক, তেমনই বিধায়কদের মধ্যে অনেকেই মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে প্রত্যাশী। কিন্তু সকলের দাবি পূরণ সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষিতেই বিধায়কদের বার্তা দেওয়া হতে পারে ওই বৈঠকে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

MLA BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy