চিনা মাঞ্জার জন্য শুধু মানুষই নয়, প্রতিনিয়ত বিপদের মুখে পড়ছে জীবকূলও। রাজারহাট-নিউ টাউন এলাকায় ধারালো চিনা মাঞ্জার জেরে নিত্যদিনই আকাশে উড়তে উড়তে নানা প্রজাতির পাখি মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। কোনওটি বেঁচে যাচ্ছে, কোনওটির মৃত্যু হচ্ছে। এই ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের রাজারহাট শাখা। তারা জানাচ্ছে, এ নিয়ে দ্রুত প্রচার শুরু হওয়া দরকার।
কলকাতার দিকে মা কিংবা এজেসি বসু রোড উড়ালপুলের উপর দিয়ে চলার সময়ে চিনা মাঞ্জায় গলা কেটে বাইকচালকের আহতএমনকি, মৃত্যুর ঘটনার খবর বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। রাজারহাট কিংবা নিউ টাউনে চিনা মাঞ্জাভয়ঙ্কর ভাবে জীবজগতের উপরেও প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ করছে বিজ্ঞান মঞ্চ। তারা জানাচ্ছে,বাজ, চিলের মতো বড় আকারের পাখি আকাশে উড়তে উড়তে ঘুড়িরসুতোয় জখম হয়ে নীচে পড়ে যাচ্ছে। গত কয়েক মাসে ওই ধরনের সাত-আটটি পাখি এ ভাবে পড়ে জখম হয়েছে। তার বাইরে টিয়া, পায়রা কিংবা অন্যান্য ছোট পাখিপ্রায়ই ঘুড়ির সুতোয় শরীর কেটে জখম হচ্ছে।
সম্প্রতি নিউ টাউনের সি বি ব্লকে এক মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে বিজ্ঞান মঞ্চকে খবর দেন বাসিন্দারা। তাঁরা দেখেন, চিনা মাঞ্জায় আটকে ছটফট করছে একটি টিয়া পাখি। সুতোর ফাঁস থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টায় পাখিটির সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। কোনও ভাবে স্থানীয় এক মহিলা সেটিকে উদ্ধার করেবিজ্ঞান মঞ্চের স্থানীয় সম্পাদক আদিত্য রায়ের হাতে তুলে দেন। রাজারহাট-নিউ টাউনে বিজ্ঞান মঞ্চের তরফে পাখি, সাপ উদ্ধার করে বন দফতরের দেন আদিত্য। ওই শাখায় তিনিই সম্পাদক।
আদিত্য বলেন, ‘‘ওই মহিলা পাখিটিকে সুতোর ফাঁস থেকে বার করে একটি খাঁচায় ভরে রেখেছিলেন। আপাতত পাখিটির চিকিৎসাচলছে। পাখিটি একটু সুস্থ এখন। ধারালো সুতোয় দু’টি পা বেশি জখম হয়েছে।’’
কয়েক সপ্তাহ আগে নিউ টাউনের কালুর মোড় থেকে বিজ্ঞান মঞ্চের কাছে একটি খবর আসে। জানা যায়, ঘুড়ির সুতোয় জখম হয়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে দু’টি বড় পেঁচা। বিজ্ঞান মঞ্চের প্রতিনিধি পৌঁছলেও পেঁচা দু’টিকে আর বাঁচানো যায়নি। আদিত্যের কথায়, ‘‘এ দিকে আমিই মূলত কাজ করি। যে কোনও ধরনেরবন্যপ্রাণীকে উদ্ধারের পরে বন দফতরের গাড়িতে তুলে দিই। চিনা মাঞ্জায় জখম হওয়া নানা ধরনের পাখিকে মাঝেমধ্যেই বন দফতরের গাড়িতে পড়ে থাকতে দেখি।’’
শহর হলেও এখনও কলকাতার তুলনায় রাজারহাট, নিউ টাউনের মতো এলাকায় নগরায়ণের বৃদ্ধি কম। ওই সব জায়গায় এখনও প্রচুর গাছপালা রয়েছে। যে কারণে কলকাতার তুলনায় ওই সব জায়গায় নানা ধরনের পাখি, পেঁচা, সাপ, গন্ধগোকূলের দেখা মেলে। বিজ্ঞান মঞ্চ জানাচ্ছে, এভাবে ঘুড়ির সুতোয় পাখির জখম হওয়ার ঘটনা জীবজগতের পক্ষে উদ্বেগজনক। তারা এ বিষয়ে বন দফতরের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)