খাতায়কলমে সরকারি তরফে ছুটির কোনও নির্দেশিকা নেই। তবে আজ, সোমবার ভোটের ফল প্রকাশের দিন গোলমালের ভয়ে ছুটি দিচ্ছে অনেক স্কুলই। একই সঙ্গে, যে সব স্কুল ছুটি দিচ্ছে না, সেগুলির প্রধান শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, যে পড়ুয়ারাস্কুলে আসবে, তারা ঠিক মতো বাড়ি ফিরতে পারবে কিনা, তা নিয়ে তাঁরা উদ্বেগে আছেন।
আজ ফল প্রকাশের দিনে সরকারি তরফে ছুটি থাকছে শুধুমাত্র দার্জিলিং জেলার পার্বত্য এলাকার স্কুলগুলিতে। সেখানকার জেলা স্কুলপরিদর্শক এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছেন। তবে, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আজ কোনও ছুটির নির্দেশিকা দেয়নি। যদিও অনেক স্কুলের শিক্ষকদের অনুমান, ঝামেলার আশঙ্কায় অনেক পড়ুয়া স্কুলে আসবে না। কিন্তু যেহেতু পর্ষদের তরফে কোনও নির্দেশিকা নেই, তাই কিছু স্কুল অন্য কারণ দেখিয়ে ছুটি ঘোষণা করেছে।
যেমন শিয়ালদহের টাকি বয়েজ়ের প্রধান শিক্ষিকা স্বাগতা বসাক এবং যোধপুর পার্ক বয়েজ় স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত সেন মজুমদার জানাচ্ছেন, তাঁদের স্কুলে এত দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। ভোট মিটতে বাহিনী চলেগিয়েছে ঠিকই। কিন্তু স্কুলের মাঠ ও বিভিন্ন ক্লাসঘর রয়ে গিয়েছে অপরিচ্ছন্ন। তাই আজ, সোমবার স্কুল পরিষ্কার করার জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। স্বাগতা বলেন, ‘‘মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নির্দেশিকা নেই। তাই সরাসরি ভোটের ফলবেরোনোর কারণ দেখিয়ে তো ছুটি দিতে পারব না। কিন্তু সোমবার খুব কম পড়ুয়া আসবে। তাই স্কুল পরিষ্কার করার জন্য ছুটি দিয়েছি।’’ অমিত বলেন, ‘‘সোমবার স্কুলপরিষ্কারের জন্য ছুটি দিয়েছি। পাশাপাশি, ফল প্রকাশের দিনে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে, মঙ্গলবার থেকে পুরো দমে ক্লাস হবে।’’শিয়ালদহ টাকি গার্লসের প্রধান শিক্ষিকা শম্পা চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, ‘‘আমাদের স্কুল থেকে এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনী যায়নি। ফলে এমনিতেই স্কুলে ছুটি চলছে।’’
মিত্র ইনস্টিটিউশন, ভবানীপুর শাখার প্রধান শিক্ষক রাজা দে জানান, তাঁদের বহু পড়ুয়া স্কুলগাড়িতে আসে। সোমবার বেশির ভাগস্কুলগাড়ি চলবে না। তিনি বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা সোমবার স্কুল ছুটি দিয়েছি। বছরে স্কুলে ৬৫ দিন ছুটির মধ্যে একটা ছুটি প্রধান শিক্ষক নিজের সিদ্ধান্তে দিতে পারেন। সেই নিয়মেই সোমবার ছুটি থাকবে।’’
যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলের ২০০মিটারের মধ্যে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র পলিটেকনিক কলেজ। সেখানে ভোট গণনা হবে। কিন্তু বিকাশ ভবন থেকে নির্দেশিকা না আসায় আমরা স্কুল ছুটি দিতে পারছি না। সোমবার সকালে কোনও নির্দেশিকা এলেও ছুটি ঘোষণা করে দেব।’’
ভোটের ফল প্রকাশের দিন ছুটি ঘোষণা না হওয়ায় ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত বাঘা যতীনবালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শম্পা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলে পঞ্চম, ষষ্ঠ শ্রেণির বহু ছাত্রী হেঁটে আসে। ফল ঘোষণার দিন গন্ডগোল হলে ওরা কী ভাবে বাড়ি ফিরবে? স্কুলে চলে এলে তো তখন ওদের দায়িত্ব আমাদের উপরেই বর্তায়। স্কুলখোলা থাকায় মিড-ডে মিলও দিতেই হবে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ থেকে ছুটি ঘোষণা হলে ভাল হত।’’
ফল ঘোষণার দিন পড়ুয়াদের স্বার্থে ছুটি দিলে ভাল হত বলে মনে করছে শিক্ষক সংগঠনগুলিও।বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির এক নেতার মতে, ‘‘আমাদের রাজ্যে ভোটের ফল বেরোনোর দিন গোলমালের উদাহরণ অতীতে আছে। তাই স্কুল খুলে রাখা পড়ুয়া, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সকলের জন্যই ঝুঁকির। অনেক শিক্ষক বহু দূর থেকে আসেন। রাস্তায় যানবাহন কম চললে কী ভাবে তাঁরা বাড়ি ফিরবেন, তা নিয়েও চিন্তা যাচ্ছে না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)