E-Paper

উদ্ধারকাজ শেষ হলেও কবে মিলবে দেহাংশ, উদ্বেগে পরিজনরা

নাজিরাবাদের ওই এলাকায় একটি ফুল সাজানোর সংস্থার গুদামে কাজ করতেন বহু শ্রমিক। তাঁদের বেশির ভাগই পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা। সেই রাতে ওই গুদামেই ছিলেন তাঁদের অনেকে। পাশে মোমোর গুদামেও ছিলেন কয়েক জন।

সমীরণ দাস 

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:২৮
উদ্ধারকাজ আপাতত শেয। ঘটনাস্থলে এখনও পড়ে পোড়া গুদামের কাঠামোর একাংশ। রবিবার, নাজিরাবাদে।

উদ্ধারকাজ আপাতত শেয। ঘটনাস্থলে এখনও পড়ে পোড়া গুদামের কাঠামোর একাংশ। রবিবার, নাজিরাবাদে। ছবি: শশাঙ্ক মণ্ডল।

নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডে শেষ হল উদ্ধারকাজ। গত ২৫ জানুয়ারি, রবিবার গভীর রাতে ওই দুই গুদামে আগুন লেগেছিল। আগুন নিভিয়ে মঙ্গলবার থেকেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। শনিবার পর্যন্ত দফায় দফায় চলে উদ্ধারকাজ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুই গুদামে থাকা ২৭ জন শ্রমিকেরই এই অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের সকলেরই দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। ২৭টি দেহাংশ উদ্ধারের পরেও তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। তবে রবিবার আর নতুন করে কোনও দেহাংশ উদ্ধার হয়নি। এর পরেই সেখানে উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে বলেই জানায় পুলিশ। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরে সপ্তাহ পেরোলেও কবে দেহাংশ হাতে পাবেন, সেই প্রশ্নতুলছেন মৃত শ্রমিকদের পরিজনেরা। তাঁরা চাইছেন, দেহাংশ যখন মিলেছে, তখন তা দ্রুত পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মের জন্য পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হোক।

নাজিরাবাদের ওই এলাকায় একটি ফুল সাজানোর সংস্থার গুদামে কাজ করতেন বহু শ্রমিক। তাঁদের বেশির ভাগই পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা। সেই রাতে ওই গুদামেই ছিলেন তাঁদের অনেকে। পাশে মোমোর গুদামেও ছিলেন কয়েক জন। আগুনে দু’টি গুদামই ভস্মীভূত হয়। আগুন আয়ত্তে আসার পরে ক্রেন দিয়ে জিনিসপত্র সরিয়ে তল্লাশি চালানো হলে দফায় দফায় মৃত শ্রমিকদের পোড়া দেহাংশ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া দেহাংশের ময়না তদন্ত করে সেখান থেকে ডিএনএ নমুনা নিয়ে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্য দিকে, ২৭ জন শ্রমিকের নিকটাত্মীয়ের রক্তের নমুনাও নেওয়া হয়েছে। দুই নমুনা মিলিয়ে দেহ শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

কিন্তু কবে মিলবে সেই দেহাংশ, তার সদুত্তর মিলছে না। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সোমবার সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে ভিড় করা শ্রমিকদের পরিজনদের অনেকেই টানা তিন-চার দিন ওই এলাকায় ছিলেন। পরে পুলিশের তরফে তাঁদের ফিরে যেতে বলা হয়। বলা হয়েছে, ডিএনএ মিলিয়ে দেহ শনাক্ত হলে তাঁদের ডাকা হবে। সেই ডাকের আশাতেই রয়েছেন তাঁরা। পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা প্রশান্ত বেরার জামাই অনুপ প্রধান ছিলেন ওই গুদামে। প্রশান্ত রবিবার বলেন, “গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওখানেই ছিলাম। তার পরে পুলিশ ফিরে আসতে বলে। বলেছে, আবার ডাকবে। কবে ডাকবে, জানি না। ওরা বলছে হাড়গোড় উদ্ধার হয়েছে। তা হলে দ্রুত আমাদের হাতে দেওয়া হোক। আমাদেরও তো পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম করতে হবে। পাশাপাশি, মৃত্যুর শংসাপত্রটাও পাওয়া জরুরি। জানি না, কবে কী হবে।”

পুড়ে যাওয়া দুই গুদামে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল না বলেই অভিযোগ উঠছে। ঘটনার পরেই দমকলমন্ত্রী এলাকায় এসে বলেছিলেন, আশপাশের গুদামগুলির অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। রবিবার এলাকার অন্য গুদামগুলিতে ঘুরতে দেখা গিয়েছে দমকলের আধিকারিকদের। কোথায়, কেমন অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখেন তাঁরা।

সেই পরিদর্শনেই দেখা যায়, বড় বড় একাধিক গুদামেরই ঢোকা-বেরোনোর একটি মাত্র রাস্তা। তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় আধিকারিকদের। যদিও এ ব্যাপারে তাঁরা মন্তব্য করতে চাননি। এ দিকে, উদ্ধারকাজ শেষ হলেও এ দিন ফের ঘটনাস্থলে আসে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। ঘটনাস্থল ঘুরে নমুনা সংগ্রহ করে তারা। এই নিয়ে চার বার ঘটনাস্থলে এলেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। তবে কী কারণে বা কোথা থেকে আগুন ছড়াল, সে ব্যাপারে এখনও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Kolkata Fire Incident Rescue Work

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy