আগামী ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে পোর্টালে যাবতীয় ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য নথিভুক্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। বিষয়টি কার্যত মেনে নিয়ে এই মর্মে জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকারও। কিন্তু নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে নথিভুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেন্দ্রের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুকে মঙ্গলবার চিঠি লিখলেন যথাক্রমে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ও দলের নেতা অধীর চৌধুরী। পাশাপাশি, বিষয়টিকে সামনে রেখে মমতা এবং রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছে বিভিন্ন দল।
দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ‘সব থেকে বেশি’ দেড় লক্ষ ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে রিজিজুকে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর বলেছেন, “অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় কারণে তথ্য নিবন্ধনের জন্য নথি বা দলিল নেই। তাই নির্দিষ্ট সময়ে তথ্য নথিভুক্তিতে সমস্যা হচ্ছে। অন্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে সমস্যাটা বেশি। শেষ ওয়াকফ সম্পত্তিটি নথিবদ্ধ হওয়া পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো জরুরি।” এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মাত্র ১০% ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত হয়েছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্করও বলেছেন, “আপনি আগে বলেছিলেন ওয়াকফ সম্পত্তি নিবন্ধনের দরকার নেই। কিন্তু এখন ৫ তারিখের মধ্যে তা শেষ করতে বলেছেন। বিভ্রান্তি, প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। পরিকাঠামো না-থাকায় বিভিন্ন জেলা নথিভুক্তির কাজ করতে পারছে না। ওয়াকফ সম্পত্তির সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।” ওয়াকফ তথ্য ‘উমীদ’ পোর্টালে তোলার সময়সীমা যাতে বাড়ে, সে জন্য আইনি পদক্ষেপের জন্যও মমতার কাছে আর্জি জানিয়েছেন শুভঙ্কর। পাশাপাশি, সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা এবং প্রয়োজনে জেলাভিত্তিক বিশেষ দল বা নোডাল অফিসার নিয়োগের দাবিও তুলেছেন তিনি।
মমতা ও তৃণমূলকে নিশানা করেছে সিপিএম। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন রাজ্যে ওয়াকফ আইন চালু হবে না। অথচ, তথ্য নথিভুক্তির নির্দেশও দিয়েছেন। আরএসএস যা চায়, উনি সেটাই করেন।” একই সুরে আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকীরও বক্তব্য, “সংখ্যালঘুদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তৃণমূল সরকার। মমতার দলের নেতারা ওয়াকফ সম্পত্তি লুট করেছেন। আইনটা যদি মেনে নিতেই হয়, তা হলে সাড়ে পাঁচ মাস চুপ ছিলেন কেন?” তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, ‘‘যে উদ্দেশ্যে ওয়াকফ আইন বদল করা হয়েছে, আমরা এখনও তার বিরুদ্ধে। তাই আন্দোলন চলবেই।’’ রাজ্যের নথিবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘যে সম্পত্তির নথি আছে, তা পোর্টালে অবশ্যই যুক্ত করতে হবে। তা না করলে হিসেব বহির্ভূত ভাবে কর্পোরেট সংস্থাগুলির কাছে বিক্রি করে দেবে। কোনও ভাবেই তা করতে দেওয়া যাবে না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)