Advertisement
E-Paper

বিরোধী-ঘরে বিবাদের মাঝেই থাবা শাসকের

বিধানসভা ভোট মিটতে না মিটতেই সিপিএমের মধ্যে বঙ্গ ব্রিগেডের সঙ্গে প্রকাশ কারাটদের যুদ্ধ! প্রসঙ্গ কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা ঠিক না ভুল। আবার অন্য দিকে কংগ্রেসের মধ্যে অধীর চৌধুরী, আব্দুল মান্নানদের সঙ্গে মানস ভুঁইয়ার বিরোধ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৬ ০৩:৪২
তুষারকান্তি ভট্টাচার্য

তুষারকান্তি ভট্টাচার্য

বিধানসভা ভোট মিটতে না মিটতেই সিপিএমের মধ্যে বঙ্গ ব্রিগেডের সঙ্গে প্রকাশ কারাটদের যুদ্ধ! প্রসঙ্গ কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা ঠিক না ভুল। আবার অন্য দিকে কংগ্রেসের মধ্যে অধীর চৌধুরী, আব্দুল মান্নানদের সঙ্গে মানস ভুঁইয়ার বিরোধ। প্রসঙ্গ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যান পদ। দুই বিরোধী দলে এই কাজিয়ার মাঝে দু’দল থেকেই এক জন করে বিধায়ককে ভাঙিয়ে নিল শাসক তৃণমূল! ভোটের দু’মাসের মধ্যে বিধানসভায় ২১১ থেকে বেড়ে তৃণমূল হল ২১৩।

একুশের মঞ্চে যা দস্তুর, বৃহস্পতিবার ধর্মতলায় তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রত্যাশিত ভাবেই বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের কংগ্রেস বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্য তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। মালদহের গাজোলের সিপিএম বিধায়ক দীপালি বিশ্বাসও তুষারবাবুর পথেই শাসক দলে ঢুকেছেন। শুধু দুই বিধায়কই নন। খড়্গপুর, পুরুলিয়া এবং কালিয়াগঞ্জের এক ঝাঁক কংগ্রেসের কাউন্সিলর একুশের মঞ্চে তৃণমূলে যোগ দেন। আন্দোলনের পথে না গিয়ে দলের মধ্যে যত কাজিয়া চলবে, তৃণমূলের পক্ষে দল ভাঙাতে তত সুবিধা বলে বিরোধী শিবিরের একাংশেই গুঞ্জন চলছে। যদিও অন্য একাংশের বক্তব্য, বিরোধী শিবিরের অন্দরের ছবি যেমনই থাকুক, গত কয়েক বছর ধরেই ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে দলভারী করে চলেছে তৃণমূল।

এ বারের ‘দলবদলু’দের তালিকায় পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরের পাঁচ জন, উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের ৭ জন এবং পুরুলিয়ার দুই কাউন্সিলর আছেন। এমনকী, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর শ্যালক তথা মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অরিৎ মজুমদারও ধর্মতলার মঞ্চে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর পুরসভার বিরোধী শিবিরের ১১ জন কাউন্সিলরও যোগ দিতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু সময়াভাবে এ দিন তাঁদের যোগ দেওয়ানো যায়নি বলে তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা জানান। মুর্শিদাবাদে অধীরের ঘরে ভাঙন ধরানোর নেপথ্যে মুখ্য চরিত্র শুভেন্দু অধিকারীই।

একুশের সমাবেশের প্রস্তুতি লগ্নে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অন্তত ২০ জন বিরোধী বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেবেন বলে লাইনে রয়েছেন! দিনকয়েক আগে তুষারবাবু তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছার কথা ঘোষণা করার পরে জল্পনা আরও তুঙ্গে উঠেছিল। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন। গত কয়েক বছরে একুশের সমাবেশে কোনও বার সাবিত্রী মিত্র, কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, কোনও বার অসিত মাল, ইমানি বিশ্বাস, গোলাম রব্বানিরা কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে এসেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই পথেই এ বার তৃণমূলে গেলেন কংগ্রেসের তুষারকান্তি, সিপিএমের দীপালি।

কংগ্রেস নেতাদের একাংশ আরও প্রমাদ গুণছেন। কারণ, কংগ্রেসের ঘাঁটি বলে পরিচিত খড়্গপুরে রবিশঙ্কর পাণ্ডে-সহ ৫ কাউন্সিলরকে দলে টেনে তৃণমূল সেখানে রাজনৈতিক জমি শক্ত করেছে। আবার প্রিয়-দীপা দাশমুন্সির খাস তালুক কালিয়াগঞ্জের ৭ জনকে এ দিন নিয়ে বিরোধী শিবিরের মোট ৯ কাউন্সিলরকে দলে টেনে তৃণমূল পুরসভা দখলের চেষ্টা করছে। আবার মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস নেতা অরিৎকে দলে টেনে অধীরের পরিবারেই কার্যত ভাঙন ধরিয়েছে তারা।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর অবশ্য পাল্টা বলেছেন, ‘‘২১ জুলাই শহিদ দিবস নয়, কংগ্রেস নিধন দিবস পালন করছে তৃণমূল! এ ভাবে দল ভাঙানো হলে আর এত টাকাপয়সা খরচ করে ভোট করানো কেন?’’ বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের অভিযোগ, ‘‘বহু টাকার প্রলোভন ও পদের টোপ দেখিয়ে দুই বিধায়ককে নেওয়া হয়েছে। এটা অনৈতিক কাজ।’’ প্রাক্তন ক্রিকেটার নভজ্যোৎ সিংহ সিধুর সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়ে বিজেপি ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে মান্নান বলেন, ‘‘তৃণমূলের সততা থাকলে কংগ্রেস ও সিপিএমের দুই বিধায়ককে দলে নেওয়ার আগে তাঁদের বিধায়ক পদ ছাড়তে বলতো।’’

একই ভাবে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী অভিযোগ করেছেন, ‘‘দীপালি বিশ্বাস পদের প্রলোভন ও টাকার কাছে বিকিয়ে গিয়েছেন। যাঁরা তাঁকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, উনি তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। দলের পাশাপাশি নিজের মুখও পোড়ালেন।’’ যদিও দীপালি দাবি করেছেন, তিনি উপনির্বাচনে ফের মানুষের রায় নিতে তৈরি।

কালিয়াগঞ্জের ৭ কংগ্রেস কাউন্সিলরকে দলে টেনে প্রায় উদ্বেলিত তৃণমূল শিবির। ধর্মতলার মঞ্চ থেকে দীপাকে কটাক্ষ করেই যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন, ‘‘যিনি নিজের বাড়ি, নিজের গড় সামলাতে পারেন না, তিনি আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেছিলেন!’’

TMC 21stjuly
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy