তাঁর খাসতালুক মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যেই ভাঙন ধরিয়েছে তৃণমূল। সপুত্র দল ছেড়ে গিয়েছেন মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ মান্নান হোসেন।
রাজনীতির উঠোন পেরিয়ে এ বার সরাসরি, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর পরিবারে কড়া নাড়ল রাজ্যের শাসক দল। মঙ্গলবার, অধীরের স্ত্রী অর্পিতা চৌধুরী জানিয়ে দিয়েছেন, “মানুষের জন্য কাজ করতে চাই আর তা করতে চাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে।” কংগ্রেস সূত্রে খবর, বেশ কিছু দিন ধরে স্ত্রী অর্পিতার সঙ্গে ‘দূরত্ব’ তৈরি হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির। তার জেরেই অর্পিতার এই সিদ্ধান্ত। তবে চেষ্টা করেও এ দিন অধীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
সদ্য দলত্যাগী মান্নান হোসেন এখন মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের সভাপতি। মান্নান বলেছেন, “ক’দিন আগেই অর্পিতা ফোন করে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আমার সম্মতি থাকলেও এ নিয়ে দলের রাজ্য নেতারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।” তবে অন্দরের খবর, ২৪ মার্চ, বহরমপুরের রবীন্দ্রভবনে এক দলীয় সভায় অর্পিতার হাতে দলের পতাকা তুলে দেবেন মান্নান। মান্নানের দাবি, অর্পিতার ভাই অরিৎ মজুমদারও তৃণমূলে যোগ দিতে আগ্রহী। টেলিফোনে সে আর্জি তিনিও জানিয়েছেন মান্নানের কাছে। তবে মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের অন্যতম সম্পাদক অরিতের সঙ্গে এ দিন যোগাযোগ করা হলে তিনি অবশ্য বলছেন, “আমার ছেলে অসুস্থ। তার চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে আছি। দিদির দলবদলের ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। আমার ব্যাপারে যা বলার জেলায় ফিরে বলব।” এ দিন বহরমপুরের গোরাবাজারে ‘চৌধুরী ভিলা’ নামে অধীরের বাড়িতে বসেই অর্পিতা বলেন, “আমার নিঃসঙ্গ জীবন। গত তিন-চার বছর ধরে একাই থাকি এ বাড়িতে। তিনি (অধীর চৌধুরী) এ বাড়ি আর আসবেন বলেও মনে হয় না। তাই এ বার তৃণমূলে যোগ দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।” কিন্তু সক্রিয় রাজনীতিতে নেমে তৃণমূলকে বেছে নিলেন কেন?
অর্পিতার জবাব, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি আদর্শ আমার ভাল লাগে। তিনি ভাল কাজ করছেন বলে তাঁর সঙ্গে মানুষ আছে। সবাই তাঁকে ভোট দিচ্ছে। আমি তাঁকে চিনি, তাই তাঁর কাছে যাওয়াটাই ভাল মনে করছি।” তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে ইতিমধ্যেই মান্নান হোসেন এবং ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তবে প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের অনেকেই মনে করেন, তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে অধীর আপত্তি করলে পিছিয়ে আসতে পারেন তাঁর স্ত্রী। এ দিন অর্পিতা মন্তব্য করেছেন, ‘‘আগে ওঁর (অধীর চৌধুরী) তরফে অনুরোধ আসুক তার পর ভেবে দেখব।”