Advertisement
E-Paper

রান্নাঘরে মমতার ছোঁয়া, পাইপলাইনে গ্যাস সর্বত্রই

কল খুললেই গ্যাস। কলকাতার রান্নাঘরে ফিরতে চলেছে পুরনো সেই দিন। মঙ্গলবার নবান্নে শহরবাসীর জন্য এমনই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জুলাই ২০১৬ ০০:০০

কল খুললেই গ্যাস। কলকাতার রান্নাঘরে ফিরতে চলেছে পুরনো সেই দিন। মঙ্গলবার নবান্নে শহরবাসীর জন্য এমনই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘গ্রেটার ক্যালকাটা গ্যাস সাপ্লাই কর্পোরেশন’-এর মাধ্যমে আপাতত শহরের অল্প কিছু এলাকায় পাইপলাইনে কোল-গ্যাস সরবরাহ চালু আছে। যা আসে ডানকুনি কোল কমপ্লেক্স থেকে। তবে তারা পূর্ণ ক্ষমতায় গ্যাস উৎপাদন না করতে পারার কারণেই পরিষেবার পরিসর বাড়ানোর সুযোগ হয়নি।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন ভাবে গ্যাস সরবরাহের জন্য পরিকাঠামো ঢেলে সাজা হবে। সময় লাগবে বছর দুয়েক। এর পরে সেই লাইনে গ্যাস আসতে আরও বছর খানেক। অর্থাৎ তিন বছরের মধ্যেই গৃহস্থের রান্নাঘরে পাইপলাইনে গ্যাসের জোগান পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে। তবে শুধু কলকাতা নয়। পাইপলাইনের এই গ্যাস পরিষেবা জোগানোর পরিকল্পনা রয়েছে হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা, হুগলি, নদিয়া এবং বর্ধমান শহরেও। মমতা বলেন, ‘‘কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্যাস পরিষেবা চালু হয়ে গেলে রাজ্যের কাছে এটা বড় সাফল্য হবে।’’

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, সিলিন্ডারের গ্যাস পেতে অনেক সময়েই সাধারণ মানুষকে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এই পরিষেবা চালু হয়ে গেলে রাজ্যের মানুষের কাছে একটা বিকল্প ব্যবস্থা থাকবে। শুধু গৃহস্থ বাড়িতেই নয়, পরিবহণ ক্ষেত্রেও ওই গ্যাস কাজে লাগানো যাবে বলে তিনি জানান। সব মিলিয়ে আয় বাড়বে রাজ্য সরকারেরও। নবান্ন সূত্রে খবর, সিটি গ্যাস সরবরাহ করার জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে গ্রেটার ক্যালকাটা গ্যাস সাপ্লাই কর্পোরেশন ইতিমধ্যেই লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে বছর তিনেক পরে ঘরে-ঘরে রান্নার গ্যাস পেতে কোনও সমস্যা হবে না বলেই সরকারের ধারণা। এই সময়ের মধ্যে গ্রেটার ক্যালকাটা গ্যাস সাপ্লাই কর্পোরেশেনের নিজস্ব পাইপলাইনেরও সংস্কার করা হবে। গ্যাস আসবে কোথা থেকে?

কলকাতায় গ্যাস পরিষেবা চালু করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গ্যাস অথরিটি অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (গেল)-এর সঙ্গে কথা চলছে রাজ্য সরকারের। এ দিন নবান্নে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র জানিয়েছেন, গ্যাস পাইপলাইন বসানোর কাজ করছে গেল। এ ছাড়াও, এইচআই এনার্জি নামে আর একটি সংস্থা সাগরের কাছে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তৈরির পরিকল্পনা করেছে।

পরে শিল্পমন্ত্রী জানান, গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দু’টি উৎস থেকেই। গেল-এর গ্যাসের পাইপলাইন বসানোর কাজ বিহারের জগদীশপুর পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে। আগামী দু’বছরের মধ্যে ওই লাইন এ রাজ্যে চলে আসা উচিত বলেই রাজ্য সরকার মনে করছে। অন্য দিকে, দরপত্রের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের বরাত পাওয়া এইচআই এনার্জি সংস্থার গ্যাস উত্তর ভারত-সহ বাংলাদেশে যাওয়ার কথা। স্বাভাবিক ভাবেই ওই গ্যাসের পাইপলাইন কলকাতার উপর দিয়েই যাবে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও এ দিন জানিয়েছেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে গ্যাস গেলে তা পেতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সূত্রের খবর, গ্যাস সরবরাহ করলে প্রাকৃতিক গ্যাস দেবে গেল। এইচআই এনার্জি-র পক্ষে ‘লিক্যুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস’-এর জোগান দেওয়া সম্ভব বলে জানা গিয়েছে।

পাইপলাইনে গ্যাসের দাম নিয়ে অবশ্য এখনই কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারি খবর, দাম নির্ভর করবে জোগানের পরিকাঠামো এবং অন্যান্য বিষয়ের উপরে।

mamata cooking gas
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy