কেউ এসেছেন দিল্লি থেকে। কেউ তামিলনাড়ু। কিন্তু স্বাস্থ্যপরীক্ষা না করিয়েই তাঁরা সরাসরি বাড়িতে ঢুকে পড়ছেন। এ দিকে গ্রামের অন্যরা বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন।
হাসনাবাদের বিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশির ভাগ মানুষই ভিন রাজ্যে কাজ করতেন। এখন করোনা ভাইরাসের জেরে কাজ বন্ধ। ফলে তাঁরা সকলে এখন বাড়ি ফিরে আসছেন। পুলিশ প্রশাসন থেকে একাধিকবার গ্রামে প্রচার করা হচ্ছে যাঁরা বাইরে থেকে আসছেন তাঁরা যেন ১৪ দিন বাড়িতেই থাকেন। কিন্তু এই কথার কোনও তোয়াক্কা না করেই তাঁরা গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিশপুর পুবের পাড়া, বায়লানি চরপাড়া, বায়লানি ভাঙাবিলপাড়া, বিশপুর মাঝের দক্ষিণপাড়া, উত্তরপাড়া, মাদার ধরমবেড়িয়া এই গ্রামগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু মানুষ বাইরের রাজ্য থেকে বাড়ি ফিরেছেন। বায়লানি চরপাড়াতে বেঙ্গালুরু থেকে ফিরেছেন তিন যুবক। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের ১৪ দিন বাড়িতে থাকার নির্দেশ। কিন্তু তাঁরা সে কথা শোনেননি।
খবর পেয়ে সোমবার সকালে বিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মৃণালকান্তি গিরি ও এক আশা কর্মী এবং কয়েক জন সিভিক ভলান্টিয়ার যুবকদের বাড়িতে যান। কিন্তু তাঁদের মধ্যে দু’জন যুবক বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর পরিবার জানায়, তাঁরা বাজারে চুল কাটতে গিয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে এই যুবকদের পরিবারকে সচেতন করা হয় যাতে এই যুবকরা আগামী ১৪ দিন বাড়িতে থাকেন। এমনকী পরিবারের অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকেন। তা ছাড়া মাদার ধরমবেড়িয়ার বাসিন্দা কয়েকজন যুবকও রবিবার মাঝরাতে বাড়ি ফেরেন তামিলনাড়ু থেকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সোমবার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছেন। অন্য দিকে সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ বেঙ্গালুরু থেকে বিশপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা এক ব্যক্তি তাঁর ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। বিশপুর পুবের পাড়াতেও আরও এক ব্যাক্তি তাঁর ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে এ দিন সকালে বাড়ি ফিরেছেন বেঙ্গালুরু থেকে। শুধু তাই নয়, বিশপুর আদিবাসী পাঠাতেও তিন ব্যক্তি এ দিন বেঙ্গলুরু থেকে ফিরেছেন। বিশপুর গ্রাম জুড়ে এ ভাবে বাইরের রাজ্য থেকে বহু মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। কিন্তু তাঁরা কেউই বাড়িতে থাকছেন না। অভিযোগ, রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সোমবার সকাল থেকে এ বিষয়ে প্রশাসনের লোকজন গ্রামে গিয়ে প্রচারও করছেন। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ভিন রাজ্য থেকে আসা যদি কেউ গ্রামে এ ভাবে ঘুরে বেড়ান, তা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। এ ছাড়া জ্বর, সর্দি, কাশি হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ দিন হাসনাবাদ থানার পুলিশকর্মীরা, বিশপুর পঞ্চায়েতের প্রতিনিধি ও এক স্বাস্থ্যকর্মী ভিন রাজ্য থেকে আসা প্রায় ৫০ জনের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের বাড়ি থাকার পরামর্শ দেন। সরকারি সমস্ত নির্দেশ মেনে চলার কথাও বলা হয়।
এ বিষয় হিঙ্গলগঞ্জের বিএমওএইচ অভিষেক দাঁ বলেন, ‘‘বাইরের রাজ্য থেকে বাড়ি ফিরে কোনও ভাবেই বাইরে ঘোরা যাবে না। সকলের উচিত আগে হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করা। জ্বর, সর্দি, কাশির উপসর্গ না থাকলেও বাড়িতে অন্যদের থেকে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রেখে ১৪ দিন হোম কোয়রান্টিন এ থাকা বাধ্যতামূলক। জ্বর, সর্দি, কাশির হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আসতে হবে এবং আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকতে হবে।’’
অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।