কোভিড হানায় জর্জরিত রাজ্যে এ বার বড় ধরনের আশঙ্কার কারণ হয়ে উঠেছে হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ। কারণ স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, এ রাজ্যে করোনায় যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে কো-মর্বিডিটি সবচেয়ে বেশি এই উচ্চ রক্তচাপে। আবার অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের রোগীর ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গ প্রথম সারিতে।
ফলে সব মিলিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ‘চেনা শত্রু’ ফের প্রধান শত্রুর চেহারায় সামনে এল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। এই পরিস্থিতিতে উচ্চ রক্তচাপের মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ স্বাস্থ্যকর্তাদের কাছে। তা না-হলে মৃত্যুর হার কমানো কঠিন হবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর রাজ্যের ‘ডিরেক্টরেট অব হেলথ সার্ভিসেস’-এর তরফে একটি নির্দেশিকা সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ‘স্ট্যান্ডার্ড ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল’ তৈরি করেছে স্বাস্থ্য দফতর। সেটা যাতে মানা হয়, তা সবাইকে সুনিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: জেলায় যান-শাসনে ২৫৭৭ কর্মী নিয়োগ
ঘটনাচক্রে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে যত কোভিড-মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে ‘কো-মর্বিডিটি’ হিসেবে সব থেকে উপরে উচ্চ রক্তচাপ। তবে তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র-সহ একাধিক রাজ্যের ক্ষেত্রে আবার সর্বাধিক ‘কো-মর্বিডিটি’র কারণ ডায়াবিটিস। তামিলনাড়ু স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত সেখানে ৪১টি মৃত্যুর মধ্যে ২১টি মৃত্যুর ‘কো-মর্বিডিটি’-র কারণ হল ডায়াবিটিস। মুম্বইয়ের ‘অ্যাসোসিয়েশন অব মেডিক্যাল কনসালট্যান্টস’-এর প্রেসিডেন্ট দীপক বেদও বলছেন, ‘‘কোভিড-মৃত্যুতে সব থেকে বেশি কো-মর্বিডিটি দেখা যাচ্ছে ডায়াবিটিস রোগীদের মধ্যে।’’