বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়ে রাজ্যে নতুন সরকার এসে গিয়েছে। তার পরে পুনর্নির্বাচন হচ্ছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে। এই ‘অকাল নির্বাচনে’ সরকার বদলের কোনও সুযোগ নেই। বরং, বিরোধীদের কণ্ঠ জোরালো করার জন্য ফলতার মানুষের কাছে আবেদন জানাল সিপিএম।
ফলতায় পুনর্নির্বাচন হবে আগামী ২১ মে। তার আগে সোমবার সেখানে সিপিএম প্রার্থী শম্ভু কুর্মির সমর্থনে বামেদের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী সভায় ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, শমীক লাহিড়ী, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়েরা। এই ভোটেও বামেদের সমর্থন করছে আইএসএফ। নির্বাচনী সভা থেকে সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্য, বিজেপি ফলতায় জিতলে ২০৭ থেকে ২০৮ হবে। তাতে কোথাও কোনও ফারাক আসবে না। সদ্য ক্ষমতা হারানো শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যা বাড়লেও লাভ নেই, কারণ পরিবর্তনের পরে তারা মানুষের পাশে ময়দানে নেই! কিন্তু বাম ও আইএসএফ বিধানসভায় দুই থেকে তিন হলে প্রান্তিক মানুষের কথা বলার সুযোগ বাড়বে।
সভায় মীনাক্ষী বলেছেন, ‘‘বামেদের সরকার ২০১১ সালে চলে গিয়েছিল। তৃণমূল এসেছিল। তার পরে গোটা দুনিয়ায় বাম সরকারের উপরে গবেষণা হয়েছিল। জমির অধিকার, ১৮ বছরে ভোটের অধিকার, পঞ্চায়েত-পুরসভা, স্কুল সার্ভিস কমিশন করেছিল বামফ্রন্ট। ফলতায় ২০০টা এসইজ়েড হয়েছিল। আর তৃণমূল করেছে শুধু দুর্নীতি, মানুষের চাকরি থেকে অধিকার সব লুট হয়েছে।’’ প্রাক্তন সাংসদ শমীক বলেছেন, ‘‘নতুন মুখ্যমন্ত্রী আবার ফলতায় আসবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে শুনতে চাই, ফলতার সব কারখানার তালা খোলা হবে!’’ সুজন মনে করিয়ে দিয়েছেন, ও’পারে হলদিয়া শিল্প নগরী গড়ে তোলার পরে বাম সরকার নদীর উপরে সেতু গড়ে অর্থনীতির গতি বাড়াতে চেয়েছিল। ফলতায় কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। ফলতার সেই পুরনো গুরুত্ব ফেরাতে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন তিনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)