E-Paper

ঝুলে থাকা ২৭ লক্ষের জন্য আসরে সিপিএম

আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের রাজ্য কমিটির দু’দিনের বৈঠকে রাজ্যে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি আলোচনায় উঠে এসেছে, ভোটের আগে এসআইআর-এর নামে হয়রানির প্রসঙ্গে বিস্তর হইচই করলেও তৃণমূল কংগ্রেস এখন দলে ভাঙন নিয়ে জর্জরিত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ০৫:৫৬
পাঁশকুড়ায় দলীয় সভায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।

পাঁশকুড়ায় দলীয় সভায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। — ফাইল চিত্র।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম গিয়েছিল ট্রাইব্যুনালে। তার মধ্যে সামান্য অংশের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছিল, বাকিরা বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। ট্রাইব্যুনালের গেরোয় আটকে থাকা মানুষের অধিকার ফেরানোর দাবি তুলে সক্রিয় হচ্ছে সিপিএম। তার পাশাপাশি, সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার ও’পারে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি রাখার প্রতিবাদেও ময়দানে নামছে তারা।

আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের রাজ্য কমিটির দু’দিনের বৈঠকে রাজ্যে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি আলোচনায় উঠে এসেছে, ভোটের আগে এসআইআর-এর নামে হয়রানির প্রসঙ্গে বিস্তর হইচই করলেও তৃণমূল কংগ্রেস এখন দলে ভাঙন নিয়ে জর্জরিত। অন্য দিকে, ট্রাইব্যুনালে জমে থাকা নাম নিয়ে সরকারি স্তরে কোনও হেলদোল নেই। এই পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তিদের নামের তালিকা তৈরি করে তাঁদের কাছে পৌঁছনো এবং আইনি সহায়তার পরিকল্পনা নিচ্ছে সিপিএম। বৈঠক শেষে বুধবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘‘এসআইআর-এ প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষকে না-ভোটার করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির মতো নানা অযৌক্তিক অজুহাতে এই মানুষদের ভোটার তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। রেশন-সহ বিভিন্ন পরিষেবা থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। এসআইআর-এর এমন ভুক্তভোগী মানুষের তালিকা তৈরি হচ্ছে, তাঁদের কাছে আমরা যাব। তার পরে দরকারে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে এই অন্যায়ের প্রতিকারের দাবি জানাব।’’

রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পরেই রেল স্টেশন-সহ নানা জায়গায় যে বুলডোজ়ার-রাজ চালু হয়েছে, সেই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে রাজ্য কমিটিতে। সূত্রের খবর, জবাবি ভাষণে রাজ্য সম্পাদক বার্তা দিয়েছেন, শ্রেণিভিত্তিক দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনের পথেই বিজেপি-বিরোধী পরিসরে সক্রিয় হতে হবে। তারই পাশাপাশি সেলিমের বক্তব্য, ‘‘বিজেপি সরকারের ‘থ্রি ডি প্রকল্পে’র (ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট) প্রতিবাদ বামপন্থীরা করছে এবং করবে। তবে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিরুদ্ধে আমরা নই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় কাঁটাতারের বেড়ার ও’পারে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জমি রাখা হচ্ছে। তাতে চাষের কাজ-সহ নানা অসুবিধা হচ্ছে মানুষের। বেড়ার গেট পিছনোর দাবিতে এবং ঘৃণার চাষের প্রতিবাদে সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসংযোগ বাড়ানো হবে।’’

ক্ষমতা হারানোর পরেই তৃণমূলের যে হাল হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক দৃশ্যমানতা বাড়ানোই আপাতত সিপিএমের লক্ষ্য। সেলিমের কথায়, ‘‘বিজেপির জমানায় ‘রয়্যাল বা লয়্যাল’ বিরোধী সাজানো হচ্ছে। আর ‘রিয়েল’ বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের রাস্তার লড়াই চলবে।’’ এ বারের বৈঠক থেকে যুব সংগঠনের ধ্রুবজ্যোতি সাহা (আগে আমন্ত্রিত ছিলেন) ও কৃষক সংগঠনের মেঘনাথ ভুঁইয়াকে রাজ্য কমিটির সদস্য করা হয়েছে। আমন্ত্রিত সদস্য করা হয়েছে বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (রানা) ও মহিলা সংগঠনের মোনালিসা সিন্হাকে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

CPIM SIR

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy